বিচ্ছেদের চার সন্তান নেই সঙ্গে তবুও ৪ শতক ধরে জয়া বিজয়াকে নিয়ে কীভাবে পূজিত হচ্ছেন গুসকরার দুর্গা

বিচ্ছেদের চার সন্তান নেই সঙ্গে তবুও ৪ শতক ধরে জয়া বিজয়াকে নিয়ে কীভাবে পূজিত হচ্ছেন গুসকরার দুর্গা

পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার ঐতিহ্যবাহী ঘটকবাড়িতে চার সন্তান ছাড়াই প্রায় ৪০০ বছর ধরে পূজিত হয়ে আসছেন দেবী দুর্গা। বাংলার চেনা দুর্গাপুজোর রীতির বাইরে গিয়ে এই পারিবারিক পুজোয় লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের পরিবর্তে দেবীর দু’পাশে অবস্থান করেন তাঁর দুই প্রিয় সখী জয়া ও বিজয়া। স্থানীয়ভাবে গুসকরার সবচেয়ে প্রাচীন এই পুজোয় আজও অটুট রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন স্বতন্ত্র উপাসনার ঐতিহ্য। কালিকাপুরাণ ও দেবীপুরাণে উল্লেখিত অষ্টসখীর উপাখ্যানের সঙ্গে মিল থাকা এই দেবী প্রতিমায় ওড়িশার বিমলা মন্দিরের আঞ্চলিক উপাসনা রীতির সুস্পষ্ট ছাপ লক্ষ্য করা যায়।

আজকের আধুনিক থিম পুজো ও জাঁকজমকপূর্ণ মণ্ডপসজ্জার ভিড়েও ঘটকবাড়ির এই ভিন্নধর্মী পুজো নিজস্ব প্রাচীন পারিবারিক ঐতিহ্যকে জীবন্ত রেখেছে। পুরাণের প্রচলিত উপাখ্যান অনুযায়ী, মহাদেবের সঙ্গে বিবাহের পর পার্বতীর কৈলাস যাত্রাকালে তাঁর সঙ্গে প্রেরিত আট সখীর প্রতিফলনই ফুটে ওঠে এই বিশেষ প্রতিমা গঠনে। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে দেবী আরাধনার এমন ব্যতিক্রমী ইতিহাস ও নিজস্ব কাহিনি গুসকরার ঐতিহ্যকে বাংলা জুড়ে এক অনন্য মর্যাদা দান করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *