তালিবানি ফতোয়ায় এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানেও কোপ, চিরতরে অন্ধত্বের অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছেন হাজারও আফগান!

শরিয়ত আইনের নামে আফগানিস্তানে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার কোণঠাসা চিকিৎসাবিজ্ঞান। ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী—এই দোহাই দিয়ে দেশে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মতো জীবনমুখী অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তালিবান সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাবুলের নূর আই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে সরকারের মৌখিক নির্দেশের পরই এই অস্ত্রোপচার স্থগিত করতে হয়েছে। এর ফলে শত শত দৃষ্টিহীন ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আফগান নাগরিকের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার শেষ আশাও বিলীন হয়ে গেছে। কয়েক দশকের সহিংসতায় ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে কঠোর শাস্তির ভয়ে চিকিৎসকরা এই অমানবিক আদেশ মানতে বাধ্য হচ্ছেন।
আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই একের পর এক মৌলিক ও মানবিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র নিষিদ্ধ করা, প্রকাশ্যে চলাফেরায় কঠোর বিধিনিষেধ এবং বাল্যবিবাহকে বৈধতা দেওয়ার পর এবার স্বাস্থ্যসেবায় হস্তক্ষেপ শুরু হলো। নতুন দণ্ডবিধিতে এমনকি পারিবারিক নির্যাতনকেও একরকম শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এমন সর্বনেশে নিদান কার্যকর হওয়ায় হাজার হাজার অসহায় মানুষের জীবন প্রদীপের আলো নিভে যাওয়ার মুখে পৌঁছেছে এবং আফগানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।