প্রকৃতির ভয়াবহ কোপেই ঘুরল ভাগ্যের চাকা, হিমাচলের পাহাড়ি গ্রামগুলোতে ঘটছে অবিশ্বাস্য অলৌকিক কাণ্ড!

হিমাচল প্রদেশে ক্রমাগত আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা ও ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে চরম বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। মান্ডি, কুল্লু, শিমলা এবং সিরমৌরের মতো জেলাগুলিতে চাষবাসের ধরণ পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রথাগত জলের উৎস সংস্কারের কাজ জোরকদমে চলছে। কুল্লুর কৃষকেরা ভাইরাসের আক্রমণের কারণে আপেল ও ডালিম চাষ ছেড়ে বিকল্প হিসেবে পার্সিমন ফলের চাষ শুরু করেছেন, আবার শিমলায় অনেকে প্রাকৃতিক চাষের দিকে ঝুঁকছেন। চাষবাসের সাথে মানিয়ে নিয়ে রোজগার স্বাভাবিক রাখাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষিকাজের পাশাপাশি জল সংরক্ষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গ্রামের মানুষ নিজেদের উদ্যোগে পরিকাঠামো গড়ে তুলছেন। সিরমৌরের মহিলারা ঐতিহ্যবাহী ‘বাওড়ি’ বা পাহাড়ি জলের কুণ্ড সংস্কার করছেন, যার ফলে ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে ফিরছে বহু জলের উৎস। অন্যদিকে, শোগি গ্রামের বাসিন্দারা গঠন করেছেন গ্রাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, যেখানে আপৎকালীন সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া ও প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ‘CEEW’ এবং ‘ICIMOD’-এর সমীক্ষায় স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় স্থানীয়দের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রয়াসই জলবায়ু মোকাবিলার আসল দিশা দেখাচ্ছে।