আদালতের এজলাস ছেড়ে উত্তাল সমুদ্রে! ৫৭ বছর বয়সে অবিশ্বাস্য ‘আয়রনম্যান’ খেতাব জিতলেন বিচারপতি!

পেশাগত ও শারীরিক লড়াইয়ে অদম্য, ‘আয়রনম্যান’ খেতাব জিতলেন কেরল হাইকোর্টের বিচারপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিচারিক কাজের বিপুল চাপের মধ্যেও অদম্য মানসিক জোর এবং কঠোর শৃঙ্খলার মাধ্যমে এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন কেরল হাইকোর্টের বিচারপতি থমাস। ৫৫-৫৯ বছর বয়সী পুরুষদের ক্যাটাগরিতে ‘আয়রনম্যান’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৮ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে কঠিন এই শারীরিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তিনি।
এই প্রতিযোগিতায় ১.৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইকেল চালানো এবং ২১.১ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। বিচারপতি থমাস জানান, প্রায় দুই বছর আগে তাঁর ছেলের অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনে দিনে ১৬-১৮ ঘণ্টা কাজের চাপে শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তিনি ফিটনেসে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিচারপতির মতে, ‘সময় নেই’—এটি কেবল একটি অজুহাত। আদালতের কাজের ফাঁকে ভোরবেলা অথবা আদালত ছুটির পরে তিনি নিয়মিত অনুশীলন চালিয়েছেন। এ সময় সামাজিক সব ধরনের অনুষ্ঠান এড়িয়ে চললেও পেশাগত দায়িত্ব পালনে তিনি কোনো খামতি রাখেননি।
তবে এই যাত্রা মোটেও মসৃণ ছিল না। ১০ বছর আগে হাঁটুতে অস্ত্রোপচারসহ ভেরিকোজ ভেইন এবং লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার মতো জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। অনুশীলনের সময় কাফ মাসল ও কাঁধের পেশিতে আঘাত পাওয়ার পরও চিকিৎসকদের বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ উপেক্ষা করে তিনি লড়াই চালিয়ে যান। এমনকি প্রতিযোগিতার এক সপ্তাহ আগেও কাঁধের তীব্র যন্ত্রণায় নাম প্রত্যাহার করার কথা ভেবেছিলেন তিনি।
শারীরিক প্রস্তুতির জন্য কঠোর ডায়েট অনুসরণ করে তিনি ৯৭ কেজি থেকে ওজন কমিয়ে ৮৬ কেজিতে নামিয়ে আনেন। প্রতিযোগিতায় ৮ ঘণ্টা ২৯ মিনিটের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ট্রানজিশনের কারণে অতিরিক্ত ১৬ মিনিট সময় ব্যয় হয়। জীবনের প্রথম ‘আয়রনম্যান’ খেতাব অর্জনের পর বিচারপতি থমাস জানিয়েছেন, নিজের ফিটনেস প্রমাণ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত তৃপ্ত। ভবিষ্যতে নিজের এই সময়সীমা আরও উন্নত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।