নির্বাচনে ৫০০ কোটি ডলারের বাজি ধরলেন মাস্ক! মার্কিন রাজনীতিতে টাকার পাহাড়?

মার্কিন নির্বাচনে অর্থের জোয়ার: সুপার প্যাকের দৌরাত্ম্যে নতুন রেকর্ড
ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) তথ্য অনুযায়ী, তেসরা নভেম্বরের ভোটের আগেই মার্কিন নির্বাচনী ব্যয় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এবারের প্রচারণায় ব্যয়ের সিংহভাগই আসছে বহিরাগত ধনকুবের এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা ‘সুপার প্যাক’ থেকে। সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অনুদানের সীমা নির্ধারিত থাকলেও, এই সুপার প্যাকগুলো ব্যক্তি বা কর্পোরেশন থেকে সীমাহীন অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। ফলে প্রার্থীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এই বিপুল অর্থ নির্বাচনী প্রচারণার গতিপথ নির্ধারণে প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোটিপতিদের মহারণ ও প্রভাব
এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে ধনকুবেরদের প্রভাব নজিরবিহীন। রিপাবলিকান প্রার্থীর সমর্থনে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক তার ‘আমেরিকা প্যাক’-এর মাধ্যমে অর্ধ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। বিপরীতে, ডেমোক্র্যাটিক দলকে জেতাতে জর্জ সোরোস ও মাইকেল ব্লুমবার্গের মতো উদারপন্থি কোটিপতিরা প্রায় ১৬ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া ক্রিপ্টো জায়ান্ট ‘রিপল’ ও ‘কয়েনবেস’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও বিশাল অংকের অর্থ ঢেলে নির্বাচনী ময়দানে নিজেদের প্রভাব নিশ্চিত করতে চাইছে।
বিজ্ঞাপনের বন্যায় নির্বাচনী প্রচার
এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে টিভি বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভোটারদের প্রভাবিত করতে। ‘অ্যাডইমপ্যাক্ট’-এর তথ্যমতে, প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনেই খরচ ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে টেক্সাস, মিশিগান ও ওহাইওসহ দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর প্রচারণায় বিজ্ঞাপনের এই আধিক্য সাধারণ মানুষের জনমতকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করছে। ২০২২ সালের তুলনায় ব্যয় ৩০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায়, গণতন্ত্রে কোটিপতিদের এই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এক ঝলকে
- এবারের মার্কিন নির্বাচনে মোট ব্যয় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত নির্বাচনের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি।
- রিপাবলিকানদের সমর্থনে ইলন মাস্কের রেকর্ড অর্ধ বিলিয়ন ডলার অনুদান, বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের সহায়তায় জর্জ সোরোস ও মাইকেল ব্লুমবার্গের কোটি ডলার বিনিয়োগ।
- ব্যয়ের বেশিরভাগ অংশই ব্যয় হচ্ছে টিভি বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে, যা ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখছে।
- রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সুপার প্যাকগুলোর সীমাহীন অর্থপ্রবাহ মার্কিন গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।