কলকাতার বুকে ১০ মাথার দেবী কালী! অলৌকিক দশমুণ্ড মায়ের রহস্য জানেন?

চেতলার ‘দশমুণ্ড মা’: ৯৬ বছরের ঐতিহ্য ও তন্ত্রসাধনার এক অলৌকিক মেলবন্ধন
দক্ষিণ কলকাতার চেতলায় অবস্থিত ‘দশমুণ্ড মা’-এর পুজো প্রতি বছরই ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কাছে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৩০ সালে শুরু হওয়া এই পুজো বর্তমানে ৯৬তম বর্ষে পদার্পণ করছে। দক্ষিণ চেতলা সর্বজনীন মহাকালীপুজো কমিটির আয়োজিত এই পুজোর নেপথ্যে রয়েছে তারাপীঠের তান্ত্রিক সাধক শুদ্ধানন্দ সরস্বতী ওরফে ‘সাধুদা’-র অনুপ্রেরণা। তারাপীঠ মহাশ্মশানে প্রাপ্ত দশ মাথার পিতলের মূর্তির আদলে তৈরি এই দেবী মূলত শ্মশানকালী রূপে পূজিত হন। প্রথা অনুযায়ী, সাধারণ পুরোহিতের পরিবর্তে বাঁকুড়া থেকে আগত তিন তান্ত্রিক সাধক সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় তন্ত্রমতে এই পুজোর যাবতীয় আচার সম্পন্ন করেন।
তন্ত্রবিধি ও অলৌকিক বিশ্বাস
পুজোর রাতে মণ্ডপ চত্বর তান্ত্রিক উপায়ে বন্ধন করা হয় এবং অমাবস্যার তিথিতে চলে বিশাল মহাযজ্ঞ। যজ্ঞকুণ্ডের সামনে আসল নরকঙ্কাল ও মাথার খুলি স্থাপন করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলে আহুতি প্রদানের প্রক্রিয়া। বহু দশক ধরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে দেবী সম্পর্কে গভীর ভক্তি ও বিশ্বাস রয়েছে। কথিত আছে, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রোগমুক্তির অনেক অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী এই মন্দির। ঐতিহ্যের টানেই অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নেতারাও এখানে ভেদাভেদ ভুলে এককাতারে সামিল হয়েছেন।
২০২৬ সালের পুজোর জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পুজো কমিটি, যেখানে কেদারনাথ ধামের আদলে মণ্ডপ সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৭ নভেম্বর থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে। চেতলার মেয়ার্স ক্লিনিকের কাছে অবস্থিত এই মন্দিরটি ঐতিহ্য আর তন্ত্রের এক অনন্য সংমিশ্রণ, যা আজও অগণিত ভক্তের কাছে এক জীবন্ত বিশ্বাসের নাম।
এক ঝলকে
- ইতিহাস: ১৯৩০ সালে শুরু হওয়া এই পুজো ৯৬তম বর্ষে পদার্পণ করল।
- বৈশিষ্ট্য: সাধারণ পুরোহিতের বদলে বাঁকুড়ার তিন তান্ত্রিক সাধক এখানে পুজো করেন।
- বিশেষ আচার: যজ্ঞকুণ্ডের সামনে নরকঙ্কাল রেখে অমাবস্যার রাতে তন্ত্রমতে মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়।
- আগামী আকর্ষণ: ২০২৬ সালে কেদারনাথ ধামের আদলে মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে কমিটির।