সমুদ্রের গভীরে চরম বিপদ, নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে ভারতের প্রবালপ্রাচীর!

সমুদ্রের গভীরে চরম বিপদ, নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে ভারতের প্রবালপ্রাচীর!

চরম সংকটে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবালপ্রাচীর: বিলুপ্তির পথে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র

আর্মেনিয়ার ইয়রেভানে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপুঞ্জের জীববৈচিত্র্য সম্মেলন ‘COP17’-এ প্রকাশিত বিশ্বব্যাপী প্রবালপ্রাচীর মূল্যায়নে দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চল নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং চাগোস দ্বীপপুঞ্জ বিস্তৃত ৮,২৮২.৬ বর্গকিলোমিটার এলাকার ১৩টি প্রবালপ্রাচীরই আগামী ৫০ বছরের মধ্যে চরম বিপন্নতার মুখে পড়তে চলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এই সামুদ্রিক সম্পদ সম্পূর্ণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

ভারতের চারটি অঞ্চলই চরম ঝুঁকিতে
কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ (ZSI)-এর বিজ্ঞানীদের গবেষণায় ভারতের চারটি প্রধান প্রবালপ্রাচীর অঞ্চলকে চরম বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লাক্ষাদ্বীপ, মান্নার উপসাগর ও পক প্রণালী এবং কচ্ছ উপসাগরের প্রবালপ্রাচীর। দীর্ঘ সময় ধরে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘মাস কোরাল ব্লিচিং’-এর মতো ঘটনা ঘটছে, যার ফলে প্রবাল তার বর্ণ ও প্রাণশক্তি হারিয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করছে।

উষ্ণায়নের পাশাপাশি উপকূলবর্তী অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, ড্রেজিং, মাত্রাতিরিক্ত দূষণ এবং অবাধে মাছ শিকার প্রবালপ্রাচীরের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রবালপ্রাচীর অপরিহার্য। তাই গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সমুদ্রের এই বর্ণময় জগৎকে রক্ষা করা আসাম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক ঝলকে

  • দক্ষিণ এশিয়ার ১৩টি প্রবালপ্রাচীর অঞ্চল আগামী ৫০ বছরে শতভাগ বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
  • ভারতের আন্দামান, লাক্ষাদ্বীপ, মান্নার উপসাগর ও কচ্ছ উপসাগরের প্রবালপ্রাচীরগুলো চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।
  • জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও মানবসৃষ্ট দূষণ প্রবাল ধ্বংসের প্রধান কারণ।
  • প্রবালপ্রাচীর রক্ষায় অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যৌথ ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *