পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে চম্পট, এনকাউন্টারে খতম কুখ্যাত খুনি!

পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে চম্পট, এনকাউন্টারে খতম কুখ্যাত খুনি!

পুলিশি হেফাজতে এনকাউন্টার: আসামের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের মৃত্যু

আসামের শিবসাগরের গৌরীসাগরে পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে ২৬ অক্টোবরের ভয়াবহ ‘বিলাস ইন’ হোটেল হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি পুরনো প্রতারণা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গুয়াহাটি থেকে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়ার পথে গগৈ পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তিনি জখম হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও ঘটনার সূত্রপাত
গত ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির ‘বিলাস ইন’ হোটেলে লিজ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মালিকপক্ষের ৫ জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে ঘনকান্ত গগৈয়ের বিরুদ্ধে। পেশাদার শুটার হিসেবে পরিচিত গগৈয়ের এই নির্মম কর্মকাণ্ডে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে আদালত গগৈকে সূর্যাস্তের পর স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নির্দেশ দিলেও, তা উপেক্ষা করে গভীর রাতে তাঁকে অন্য মামলায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে এই এনকাউন্টারের ঘটনা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

প্রভাব ও আইনি বিতর্ক
এই ঘটনা একদিকে যেমন নিহত পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে রুদ্ধ করল, অন্যদিকে বিচারবিভাগীয় নির্দেশ অমান্য করে পুলিশি অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এনকাউন্টারে মৃত্যুর ফলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এবং এর পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী চক্রের যোগসূত্র ছিল কি না, তা উদঘাটনের পথটি এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এক ঝলকে

  • ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির ‘বিলাস ইন’ হোটেলে ৫ জনকে গুলি করে হত্যার মূল অভিযুক্ত ছিলেন ঘনকান্ত গগৈ।
  • মঙ্গলবার রাতে শিবসাগর যাওয়ার পথে পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর সময় এনকাউন্টারে তিনি নিহত হন।
  • আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাতে আসামি স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
  • এই মৃত্যুর ফলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া ও ঘটনার সত্যতা উন্মোচন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *