ওমর সরকারের ভবিষ্যৎ কি বিপন্ন, গোপনে বৈঠকে ক্ষুব্ধ বিধায়করা!

ন্যাশনাল কনফারেন্সের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ, সংকটের মুখে ওমর আবদুল্লা সরকার
শ্রীনগর: মন্ত্রিসভা গঠন ও দলীয় নীতিনির্ধারণ নিয়ে ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) অন্দরে চলা তীব্র কোন্দল ও বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। দলের প্রভাবশালী নেতা ও সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লাহর দলত্যাগ এবং ছয় বারের বিধায়ক মুবারক গুলের ক্ষোভের আবহে ওমর সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
১৫ দিনের আল্টিমেটাম ও বিধায়কদের ক্ষোভ
গত ২৭ অক্টোবর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ দানা বাঁধে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার শ্রীনগরে ১০ থেকে ১৫ জন বিধায়ক এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। ক্ষুব্ধ বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দুটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন:
১. উপমুখ্যমন্ত্রীসহ বর্তমান মন্ত্রিসভার আটজন মন্ত্রীকে অবিলম্বে সরিয়ে নতুনদের জায়গা দেওয়া।
২. মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির আসলাম ওয়ানিকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা।
বিধায়কদের অভিযোগ, নাসির আসলাম ওয়ানি মুখ্যমন্ত্রীর ওপর মাত্রাতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছেন এবং দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
আগা সৈয়দ রুহুল্লাহর ইস্তফা ও মুবারক গুলের বিদ্রোহ
দলীয় কোন্দলের মাঝেই শ্রীনগরের প্রভাবশালী সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ ন্যাশনাল কনফারেন্স থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ৩৭০ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল ও রাজ্যের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পালনে দল ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না পাওয়া ইদগাহ কেন্দ্রের প্রবীণ বিধায়ক মুবারক গুল প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ৪ নভেম্বর তাঁর সাংবাদিক বৈঠক ডাকার পরিকল্পনা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সংখ্যাতত্ত্ব ও সরকারের ভবিষ্যৎ
৯০ আসনের জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ৪৬। বর্তমানে ন্যাশনাল কনফারেন্সের ৪১, কংগ্রেসের ৬, নির্দল ৬ এবং সিপিআইএমের ১ জন বিধায়ক মিলিয়ে ৫৪ জনের সমর্থনে ওমর সরকার ক্ষমতাসীন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার আপাতত নিরাপদ মনে হলেও অংকটা জটিল হতে পারে। যদি ক্ষুব্ধ ২০ জন বিধায়ক পদত্যাগ করেন, তবে বিধানসভার কার্যকর আসন সংখ্যা কমে ৭০-এ দাঁড়াবে। সেক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৩৬টি আসনের বদলে শাসক জোটের হাতে থাকবে মাত্র ৩৪টি আসন। ফলে সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল দরকষাকষির কৌশল হতে পারে, আবার এটি বড় ধরনের ভাঙনেরও ইঙ্গিত হতে পারে। আগামী কয়েক দিন ওমর আবদুল্লার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।