নিউটাউনের বেসরকারি হাসপাতালে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব ও ভাঙচুর, রোগী-চিকিৎসকদের মারধরের অভিযোগ প্রোমোটারের বিরুদ্ধে

জমি সংক্রান্ত পুরনো বিবাদের জেরে নিউটাউনের যাত্রাগাছি এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে মধ্যরাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক প্রোমোটার ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা ভেতরে ঢুকে নার্স ও চিকিৎসকদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয় এবং আইসিইউ-তে থাকা সংকটজনক রোগী-সহ ৯ জন ভর্তি রোগীকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। এই নারকীয় ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
রাতের অন্ধকারে সশস্ত্র হামলা ও রোগীদের উচ্ছেদ
- আইসিইউ রোগীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ: হামলার সময় হাসপাতালটিতে মোট ৯ জন রোগী ভর্তি ছিলেন, যাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁরা আইসিইউ (ICU)-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অভিযোগ, বন্দুক উঁচিয়ে ঢোকা দুষ্কৃতী দল কাউকেই রেয়াত করেনি।
- চিকিৎসক ও কর্মীদের মারধর: কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের শারীরিক নিগ্রহ ও মারধর করে হাসপাতাল চত্বর থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।
নিউটাউনের বেসরকারি হাসপাতালে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব ও ভাঙচুর, রোগী-চিকিৎসকদের মারধরের অভিযোগ প্রোমোটারের বিরুদ্ধে https://t.co/xqDWeY2AbT
— EK JHALAK NEWS (@LiveJhalak) November 4, 2026
জমি বিবাদ ও শাসকযোগের অভিযোগ
- আদালতে বিচারাধীন মামলা: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, যে জমির ওপর হাসপাতালটি তৈরি, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি বিরোধ চলছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
- প্রোমোটারের ওপর দায়: কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলার পুরো পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব ছিল স্থানীয় প্রোমোটার সঞ্জীব বিশ্বাসের হাতে। শাসকদলের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই ঘটনায় নিউটাউন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কোটি টাকার বকেয়া ও বেআইনি পরিচালনার পাল্টা দাবি
ঘটনার দু’দিন আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রোমোটার সঞ্জীব বিশ্বাস দাবি করেছিলেন:
- সংশ্লিষ্ট জমির আসল মালিক তিনি নিজেই।
- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ভাড়া বাবদ তাঁর কয়েক কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
- কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই হাসপাতালটি চালানো হচ্ছিল বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
আদালতে বিচারাধীন একটি সম্পত্তি নিয়ে সরাসরি স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে এমন হামলা এবং রোগীদের হেনস্থার ঘটনায় স্থানীয় মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দায়ের হওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নিউটাউন থানার পুলিশ।