ইন্দ্রনীলের আমলে টেন্ডারে বেনিয়ম! অস্বস্তিতে তৎকালীন আধিকারিকরা, নড়েচড়ে বসল সিট

প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতির তদন্ত: সিটের আতসকাঁচের নিচে দপ্তরের আধিকারিকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে নেমে বড়সড় অনিয়মের হদিস পেলেন তদন্তকারী বিশেষ দল (সিট)। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্ব থাকাকালীন বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানের টেন্ডারে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় প্রাক্তন মন্ত্রীর পাশাপাশি দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সিট সূত্রে খবর, বইমেলা, বাইশে শ্রাবণ ও সংগীত মেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজনে কোনো নিয়ম মানা হয়নি। অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়া কেবল লোক দেখানো ছিল। প্রাক্তন মন্ত্রী আগেই ঠিক করে রাখতেন কাকে বরাত দেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী অন্য সংস্থা কম দর দিলেও, মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের সংস্থাকেই চড়া দামে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি কোষাগার থেকে এই বাড়তি টাকা বেরোনোর বিষয়টি জানার পরও কেন আধিকারিকরা বাধা দেননি বা কোনো নোট শিট দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে দুর্গাপূজার প্রিভিউ পাস দুর্নীতি। অভিযোগ, মন্ত্রীর নির্দেশে এই পাসগুলোতে সরকারি লোগোর পাশাপাশি একটি বেসরকারি সংস্থার নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এই পাসের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। প্রশাসনিক কর্তাদের চোখের সামনে কীভাবে এই অনিয়ম চলল এবং প্রাক্তন মন্ত্রীর প্রভাবের কারণে তাঁরা নীরব ছিলেন কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে তদন্ত।
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর দাবি, সমস্ত কাজ নিয়ম মেনেই হয়েছে এবং কোনো টেন্ডারে তাঁর ঘনিষ্ঠ কাউকে সুবিধা দেওয়া হয়নি। উল্টো দিকে, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রশাসনিক কর্তারা কেন তা দেখেননি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সূত্রের খবর, এই মামলার তদন্তে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে আরও দুটি নতুন ধারা যুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিপুল নথিপত্র তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। এই মামলার সূত্র ধরে মঙ্গলবার প্রাক্তন মন্ত্রীর কন্যাকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। বুধবার দুপুরে তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সিট এখন সরকারি আধিকারিকদের দায়বদ্ধতা এবং মন্ত্রীর নির্দেশের নেপথ্যে থাকা প্রভাব খতিয়ে দেখছে।