ঘুমের মধ্যে হাত-পা ছোঁড়া কি মরণব্যাধির সংকেত? এখনই সাবধান হোন!

ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি: নীরব বিপদ ও করণীয়
মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সংকেতের অস্বাভাবিক আচরণের ফলে মৃগীরোগ বা এপিলেপসির সৃষ্টি হয়। মস্তিষ্ক ঘুমের সময়ও সচল থাকায় মৃগীরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘুমের মধ্যেও খিঁচুনি হতে পারে। বংশগত কারণ, মস্তিষ্কে সংক্রমণ, আঘাত, টিউমার কিংবা বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতার কারণে এই ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব এবং নিয়ম না মেনে ওষুধ সেবনের ফলে খিঁচুনির প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
শনাক্তকরণ ও ঝুঁকি মোকাবিলা
ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি সাধারণত রোগী নিজে বুঝতে পারেন না। তবে হঠাৎ শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, হাত-পা কাঁপা, জিভে কামড়ের দাগ কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখে পরিবারের সদস্যরা এটি শনাক্ত করতে পারেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে ‘সুদেপ’ বা সাডেন আনএক্সপেকটেড ডেথ ইন এপিলেপসি বলা হয়, যা অত্যন্ত বিরল হলেও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়া বা শ্বাসপ্রশ্বাসে জটিলতা তৈরির মাধ্যমে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই নিয়মিত ইইজি (EEG), এমআরআই এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করা অপরিহার্য।
সতর্কতা ও প্রাথমিক পদক্ষেপ
খিঁচুনি শুরু হলে রোগীকে জোর করে চেপে ধরা, মুখে জল বা অন্য কিছু দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বরং রোগীর আশপাশ থেকে শক্ত বস্তু সরিয়ে মাথার নিচে নরম কিছু রাখতে হবে এবং খিঁচুনি থামলে রোগীকে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে। কোনোভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত এবং জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণই এই জটিল পরিস্থিতি থেকে রক্ষার প্রধান উপায়।
এক ঝলকে
- ঘুমের মধ্যে হওয়া খিঁচুনি মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপে অস্বাভাবিকতার সংকেত দেয়, যা ক্ষেত্রবিশেষে প্রাণঘাতী হতে পারে।
- পারিবারিক ইতিহাস, মস্তিষ্কে আঘাত, টিউমার কিংবা খনিজের ভারসাম্যহীনতা এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
- জিহ্বায় কামড়ের দাগ, শরীর শক্ত হওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
- খিঁচুনির সময় রোগীকে জাপটে না ধরে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীকে কাত করে শোয়ানো প্রাথমিক চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত।