হায়দরাবাদের অসাধ্য সাধন, ডিজিটাল লেনদেনে সবার সেরা!

হায়দরাবাদে ডিজিটাল লেনদেনের জোয়ার, অভ্যাসে পরিবর্তন আনছে ইউপিআই
‘অ্যামাজন পে’ এবং ‘পাহলে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘হাউ আরবান ইন্ডিয়া পেজ ২০২৬’ শীর্ষক রিপোর্টে উঠে এসেছে ডিজিটাল লেনদেনে হায়দরাবাদের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির চিত্র। শহরের বাসিন্দারা দৈনন্দিন কেনাকাটা, রেস্তোরাঁয় আহার কিংবা যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রথাগত নগদ অর্থের বদলে ইউপিআই (UPI)-কে মূল মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তথ্য অনুযায়ী, কর্মজীবী মানুষ ডিজিটাল লেনদেনে অন্যদের তুলনায় ১৬ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন, যা শহরের সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ডিজিটাল সংস্কৃতির গভীর প্রভাবকে নির্দেশ করে।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগে ডিজিটাল অ্যাপের প্রভাব
আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এখন কেবল লেনদেনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। হায়দরাবাদের বাসিন্দারা স্বয়ংক্রিয় সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে সারা দেশের গড় হারের চেয়ে ১৩ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, গ্রাহকদের একটি বড় অংশ এখন ‘অল-ইন-ওয়ান’ অ্যাপের দিকে ঝুঁকছেন। অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহারকারী পেমেন্টের পাশাপাশি বিমা, মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ এবং ঋণের মতো আর্থিক কাজগুলো একটিমাত্র অ্যাপের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পছন্দ করছেন। মূলত আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক এবং উন্নত পরিষেবাই তাদের এই অভ্যাসের দিকে প্ররোচিত করছে।
সতর্কতা সত্ত্বেও বাড়ছে সচেতনতা
ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার ব্যাপক প্রসারের পরেও ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের ৮৮ শতাংশ মানুষ ডিজিটাল ঋণের সুবিধা সম্পর্কে অবহিত থাকলেও, সরাসরি অ্যাপ থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকরা এখনও দ্বিধাগ্রস্ত। এই ব্যবধান প্রমাণ করে যে, লেনদেনে অভ্যস্ত হলেও ডিজিটাল ঋণের সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতামূলক নিরাপত্তার বোধ আরও সুদৃঢ় হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এক ঝলকে
- হায়দরাবাদের কর্মজীবী মানুষেরা দেশের গড়ের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি ইউপিআই ব্যবহার করছেন।
- স্বয়ংক্রিয় সঞ্চয়ের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি।
- ৫২ শতাংশ গ্রাহক বিনিয়োগ, বিমা ও ঋণের সুবিধা পেতে ‘অল-ইন-ওয়ান’ অ্যাপকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
- ডিজিটাল ঋণের সুবিধা সম্পর্কে ৮৮ শতাংশ মানুষ জানলেও, অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি ঋণ নেওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে সতর্কতা বিদ্যমান।