হুগলির মামুদপুরে খুদেদের মুখে হাসি ফোরাল চিনা কনস্যুলেট!

হুগলির মামুদপুরে খুদেদের মুখে হাসি ফোরাল চিনা কনস্যুলেট!

 

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ শিশুদের পাশে চিনা কনস্যুলেট: শিক্ষার প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করছে কলকাতার চিনা কনস্যুলেট। এই সফরের অঙ্গ হিসেবে স্থানীয় শিশুদের হাতে শিক্ষার উপকরণ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সম্প্রতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কলকাতার ভারপ্রাপ্ত চিনা কনসাল জেনারেল বলেন, “শিশুদের জন্য আমাদের এই সামান্য উপহার তাদের পড়াশোনাকে আরও সহজ ও আনন্দময় করে তুলবে বলে আমরা আশাবাদী।” তিনি জানান, গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলিতে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম অগ্রাধিকার।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল বলেন, এক সময় চিনের গ্রামাঞ্চলেও শিক্ষা নিয়ে একই ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে দারিদ্র্য বিমোচন ও শিক্ষার প্রসারে চিন বর্তমানে সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৪ সালে চিনে প্রাথমিক শিক্ষায় নিট ভর্তির হার ৯৯.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। গ্রামীণ শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমানে চিন ইন্টারনেট প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তরুণ শিক্ষকদের উৎসাহিত করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে চিনের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “মানুষে-মানুষে বন্ধুত্বই রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে সম্পর্কের মূল ভিত্তি। দুই দেশের শিশুদের একে অপরের সংস্কৃতি ও বিশ্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা বন্ধুত্বের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে পারি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “শিক্ষা মানে কেবল তথ্য দিয়ে পাত্র পূর্ণ করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অন্তরে জ্ঞানের আলো প্রজ্বলিত করা। প্রতিটি শিশুই যাতে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” পরিশেষে, ‘মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও শান্তির জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করাই বর্তমান সময়ের প্রধান অঙ্গীকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *