অগ্নিপথে বড় চমক! ৪ বছরের বদলে সেনায় চাকরির মেয়াদ বাড়ছে?

অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ বাড়াল কেন্দ্র, মিলবে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ
ভারতের সামরিক কাঠামোয় বড়সড় ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমানি যৌথভাবে ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে অগ্নিবীররা প্রাথমিক চার বছরের মেয়াদের পর আরও দুই বছর সেনাবাহিনীতে পরিষেবা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এই নতুন ‘সেকেন্ড ট্যুর অফ ডিউটি’র মাধ্যমে প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ জওয়ানদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের স্থায়ী সেনাকর্মী হওয়ার পথও প্রশস্ত করা হয়েছে।
আধুনিক সামরিক বাহিনী গঠনে কৌশলগত পদক্ষেপ
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাকে আরও দক্ষ ও তরুণ করে তোলাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২২ সালে অগ্নিপথ প্রকল্প চালুর পর যারা চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে যারা প্রাথমিক মেয়াদের পর বাদ পড়তেন, এখন তারা অতিরিক্ত দুই বছর কাজ করার সুযোগ পাবেন। এরপর যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা সশস্ত্র বাহিনীতে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন করতে পারবেন।
নিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ
অগ্নিপথ প্রকল্প শুরুর পর থেকে চার বছর মেয়াদী চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তা অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়ানো এবং চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় একদিকে যেমন বাহিনীর পেশাদারিত্ব বাড়বে, তেমনই হাজার হাজার অগ্নিবীর জওয়ানের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে সুরক্ষার নিশ্চয়তা তৈরি হবে। সামরিক শক্তিকে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করার লক্ষ্যে এটি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এক ঝলকে
- মেয়াদ বৃদ্ধি: অগ্নিবীরদের জন্য প্রাথমিক ৪ বছরের পাশাপাশি আরও ২ বছরের ‘সেকেন্ড ট্যুর অফ ডিউটি’ বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত হচ্ছে।
- স্থায়ী হওয়ার সুযোগ: ৬ বছরের বর্ধিত মেয়াদ শেষে যোগ্য ও ইচ্ছুক প্রার্থীরা নির্দিষ্ট পরীক্ষার মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে স্থায়ীভাবে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
- লক্ষ্য: ভবিষ্যতের অত্যাধুনিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাকে আরও ফিট, দক্ষ ও প্রযুক্তিবান্ধব করে তোলা।
- ইতিবাচক প্রভাব: চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে তরুণদের মধ্যে থাকা সংশয় কমবে এবং সেনায় অভিজ্ঞ কর্মীবাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।