স্বামীর অদ্ভুত আচরণগুলো কি মারাত্মক কোনো মানসিক ব্যাধি!

নার্সিসিস্টিক স্বামীর আচরণ চিনুন, সুরক্ষিত রাখুন নিজের মানসিক স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক: দাম্পত্য জীবনে সঙ্গী আত্মকেন্দ্রিক বা ‘নার্সিসিস্টিক’ (আত্মরতিমূলক) মানসিকতার হলে তা দীর্ঘমেয়াদে একজনের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন নার্সিসিস্টিক ব্যক্তি সর্বদা নিজের গুরুত্ব জাহির করতে ব্যস্ত থাকেন এবং অন্যের আবেগ বা কষ্টের প্রতি চরম উদাসীনতা প্রদর্শন করেন। সময় থাকতেই সঙ্গীর আচরণ বিশ্লেষণ করে এই ধরনের মানসিকতা শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নার্সিসিস্টিক স্বভাবের স্বামীরা সাধারণত নিজেদের চারপাশের সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দ করেন। তাঁরা চান যে, তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন কোনো প্রশ্ন ছাড়াই গৃহীত হয় এবং চারপাশ থেকে কেবল তাদের প্রশংসাই করা হোক। সম্পর্কের শুরুতে অনেক সময় এই বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্ট না হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আচরণে বেশ কিছু লক্ষণ ফুটে ওঠে।
একজন জীবনসঙ্গী নার্সিসিস্টিক কি না, তা বোঝার জন্য পাঁচটি প্রধান লক্ষণের কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা:
১. অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিকতা: এই ধরনের ব্যক্তিরা অন্যের দুঃখ বা ক্লান্তি বুঝতে পারেন না। সঙ্গীর কষ্টের কথা শুনলে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে তারা নিজের কাজের বড়াই করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
২. সহানুভূতির অভাব: এদের মধ্যে সহমর্মিতার চরম ঘাটতি থাকে। সঙ্গীর মানসিক অবসাদ বা কান্নায় তারা বিচলিত হন না, বরং পরিস্থিতি উল্টে দিয়ে সঙ্গীকে দোষারোপ করেন।
৩. গ্যাসলাইটিং: পরিস্থিতি এমনভাবে ঘোরানো বা উপস্থাপন করা যাতে সঙ্গী নিজের বুদ্ধিমত্তা ও সিদ্ধান্তের ওপরই সন্দেহ করতে শুরু করেন—যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘গ্যাসলাইটিং’ বলা হয়। এতে নার্সিসিস্টিক ব্যক্তিরা ওস্তাদ হন।
৪. অধিকারবোধ ও আসাম্মান: সঙ্গীর স্বাধীনতা বা ব্যক্তিগত মতামতের প্রতি তারা কোনো সম্মান প্রদর্শন করেন না। তাদের মধ্যে অহেতুক অধিকারবোধ প্রবল থাকে।
৫. সমালোচনায় অসহিষ্ণুতা: গঠনমূলক সমালোচনা বা পরামর্শ শুনলে তারা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশোধমূলক আচরণ করতে শুরু করেন।
মনোবিদদের পরামর্শ, যদি কোনো সম্পর্কের মধ্যে এই লক্ষণগুলো স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এ ধরনের বিষাক্ত সম্পর্কের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে প্রথমে পরিস্থিতিটি অনুধাবন করা জরুরি। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ‘কাউন্সেলিং’-এর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিজের মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে সম্পর্কের সীমা নির্ধারণ এবং পরিবারের নির্ভরযোগ্য সদস্যদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সচেতনতাই পারে একজন নারীকে এই ধরনের মানসিক নির্যাতনের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে।