দীপাবলির আতসবাজিতে হাত পুড়লে কী করবেন? প্রথম ২০ মিনিটই বাঁচাবে আপনার হাত!

আতশবাজিতে পোড়া ক্ষতকে অবহেলা নয়, জরুরি পরামর্শ দিলেন চিকিৎসকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
উৎসবের মরসুমে আতশবাজি বা পটকা ফোটানোর সময় অসাবধানতাবশত হাত বা শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে তা কেবল ত্বকের বাইরের আঘাত নয়, বরং শরীরের ভেতরের গভীর টিস্যু ও স্নায়ুরও মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, পোড়া ক্ষতকে হালকাভাবে নেওয়ার প্রবণতা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
পোড়া জায়গা অসাড় হওয়া কি ভয়ের?
অনেকেরই ধারণা, পুড়ে যাওয়ার পর যদি ব্যথা অনুভূত না হয় বা সেই জায়গাটি অসাড় হয়ে যায়, তবে হয়তো আঘাত গুরুতর নয়। চিকিৎসকরা এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে অভিহিত করেছেন। পোড়া স্থানে ব্যথা না হওয়া বা স্থানটি অসাড় হয়ে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি সংকেত। এর অর্থ হলো আঘাত এতই গভীর যে ত্বকের ভেতরের স্নায়ু (নার্ভ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি, পোড়া ত্বকের রং সাদা হয়ে যাওয়া কিংবা চামড়া শক্ত ও কালচে হয়ে যাওয়া গভীর টিস্যু নষ্ট হওয়ার লক্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত সার্জন বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অবহেলা করলে পরবর্তীতে আঙুল স্থায়ীভাবে কুঁকড়ে যাওয়ার মতো পঙ্গুত্বের ঝুঁকি থাকে।
দুর্ঘটনার প্রথম ২০ মিনিটের করণীয়
দুর্ঘটনা ঘটার পর প্রথম ২০ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই সময় নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:
- আগুন নেভানো: কাপড় বা শরীরে আগুন লাগলে দৌড়াদৌড়ি না করে মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি দিতে হবে।
- ঠান্ডা জলের ব্যবহার: পোড়া অংশ অন্তত ২০ মিনিট ধরে ঠান্ডা ও বহমান কলের জলের নিচে রাখতে হবে। তবে ভুল করেও সরাসরি বরফ বা বরফজল ব্যবহার করা যাবে না, এতে ত্বকের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
- অনুষঙ্গ সরানো: পোড়া জায়গা ফুলে ওঠার আগেই হাতের আংটি, ঘড়ি বা ধাতব বস্তু খুলে ফেলতে হবে। চামড়ার সঙ্গে কাপড় সেঁটে গেলে তা টেনে তোলার চেষ্টা করা অনুচিত।
যে ভুলগুলো করা থেকে বিরত থাকতে হবে
পোড়া স্থানে তেল, ঘি, হলুদ বা টুথপেস্ট লাগানোর মতো পুরনো কুসংস্কার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলোতে ক্ষতের সংক্রমণ বা ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এর পরিবর্তে ঠান্ডা জলে ধোয়ার পর ক্ষতস্থানটি একটি পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত এবং নন-স্টিকি ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উৎসবের আনন্দময় মুহূর্তগুলো নিরাপদ রাখতে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।