ভাতা নাকি চাকরি, বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর!

ভাতা নাকি চাকরি, বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর!

 

ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থানই লক্ষ্য, নতুন নীতি ঘিরে দানা বাঁধছে আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: রাজ্যে চালু থাকা বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প এবং ভাতা প্রদানের বর্তমান ধারা থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে বিজেপি সরকার। ‘ভাতা-নির্ভর’ অর্থনীতির পরিবর্তে রাজ্যের মানুষকে ‘স্বনির্ভর’ করে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। তবে সরকারের এই নতুন নীতি ঘোষণার পর থেকেই উপভোক্তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি দুর্গাপুরের এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, বিগত সরকারের আমলে বাংলাকে ‘ভাতা-নির্ভর’ করে তোলা হয়েছিল, যা থেকে রাজ্যকে বেরিয়ে আসতে হবে। একই সুরে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ভাতার বদলে ভাতের প্রত্যাশা বাড়ানোই সমাজের জন্য মঙ্গলজনক।” সরকারের লক্ষ্য হলো, এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লে সাধারণ মানুষ নিজেরাই ভাতা নেওয়া বন্ধ করে দেবেন।

সরকারি এই বার্তার পর থেকেই প্রান্তিক স্তরের উপভোক্তাদের মনে আশঙ্কা দানা বেঁধেছে। দুর্গাপুরের বাসিন্দা পূর্ণিমা অঙ্কুরের মতো বহু মহিলার বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্পের মাধ্যমে পাওয়া টাকা তাদের সংসার চালানোর প্রধান অবলম্বন। হঠাৎ এই সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা চরম সংকটের মুখে পড়বেন। বিষয়টি নিয়ে সমাজবিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিকদের একাংশের মত, পর্যাপ্ত বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো প্রত্যাহার করলে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এদিকে, এই ইস্যুতে বিরোধীরাও সরব হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআইএম নেতৃত্ব একযোগে দাবি করেছে যে, পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন থাকলেও প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার এই শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেওয়া অমানবিক।

সব মিলিয়ে তৈরি হওয়া এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সরকার কোনো প্রকল্প হুট করে বন্ধ করছে না। দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ব্যাপক শিল্পায়ন ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। যাতে সাধারণ মানুষ ভাতার ওপর চিরকাল নির্ভরশীল হয়ে না থাকে। রাজ্যবাসীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাতা বনাম কর্মসংস্থানের এই বিতর্ক এখন বাংলার রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। সরকারের এই নতুন নীতি কার্যকর করার প্রক্রিয়া আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *