মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল ছোট্ট মায়া, এয়ার লিফটে পাড়ি দিল নতুন জীবনে!

অত্যাধুনিক চিকিৎসায় সুস্থতার পথে কেরলের অনাথ হস্তিশাবক ‘মায়া’
নিজস্ব প্রতিবেদক: কেরলের মালায়াত্তুর থেকে উদ্ধার হওয়া হস্তিশাবক ‘মায়া’ এখন জামনগরের ভানতারা এলিফ্যান্ট কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সর্বক্ষণের পর্যবেক্ষণে রয়েছে সে।
২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল কেরলের কাপরিক্কড় এলাকায় নদীর পাড়ে সদ্যোজাত মায়াকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বন বিভাগ। জন্মের পর মায়ের সান্নিধ্য না পাওয়া ও তীব্র জলশূন্যতায় ভুগতে থাকা মায়াকে এক বছর ধরে পরম যত্নে সুস্থ করে তোলেন বনকর্মীরা। কিন্তু গত বছরের ২ জুলাই খেলতে গিয়ে পিছলে পড়ে তার ডান কাঁধে গুরুতর চোট লাগে। এরপর দীর্ঘ ফিজিওথেরাপি সত্ত্বেও তার হাড়ের ভাঙন ও শারীরিক দুর্বলতা বাড়তে থাকে। অক্টোবর নাগাদ অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, শরীরের ভার বহন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে হস্তিশাবকটি।
পুকোড়ের ‘কলেজ অফ ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস’-এর চিকিৎসকরা জানান, মায়ার শরীরে একাধিক হাড় ভাঙার পাশাপাশি বুকে সংক্রমণ এবং দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকার ফলে ঘা (বেডসোর) তৈরি হয়েছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে কেরলের চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন ড. পি. পুগাজেন্দি এবং বিশিষ্ট পশুচিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিক্যাল বোর্ড তাকে ভানতারায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।
লাইফ সাপোর্ট এবং বিশেষ পর্যবেক্ষণের সুবিধাযুক্ত বিমানে করে মায়াকে জামনগরে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে ভানতারার অত্যাধুনিক ভেটেরিনারি পরিকাঠামোয় তার পেইন ম্যানেজমেন্ট ও নিবিড় চিকিৎসা চলছে। মায়ার শারীরিক অবস্থা এখনও অস্থির হলেও, উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।