জন্মদিনের রাতেই অভিষেকের বাড়ির সামনে তুমুল সংঘর্ষ, কালীঘাটে খুনের চেষ্টা!

জন্মদিনের রাতেই অভিষেকের বাড়ির সামনে তুমুল সংঘর্ষ, কালীঘাটে খুনের চেষ্টা!

 

কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে হামলা ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ, অস্বীকার বিজেপির

নিজস্ব প্রতিবেদন: নিজের জন্মদিন উপলক্ষে কালীঘাটের বাসভবনের সামনে তৃণমূল কর্মীদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে খুনের পরিকল্পনা নিয়েই সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়ির সামনে হামলা চালিয়েছে। তবে বিজেপির তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ‘নাটক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

অভিষেকের দাবি, তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে জড়ো হওয়া তৃণমূল কর্মীদের ওপর হঠাৎ একদল দুষ্কৃতী চড়াও হয়। বিজেপির মদতপুষ্ট এই দুষ্কৃতীরা ইট-পাথর নিয়ে কর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং অভিষেকের নামে লাগানো ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। সাংসদের অভিযোগ, হামলাকারীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র (রিভলভার) ছিল এবং তাঁকে হত্যার পূর্বপরিকল্পনা নিয়েই তারা এসেছিল। এই ঘটনায় তাপস নামে এক কর্মীর আঙুলে গুরুতর আঘাত লেগেছে, যা প্লাস্টিক সার্জারির পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্য এক কর্মীর চোখের নিচে হাড় ভেঙেছে বলেও জানা গেছে।

অভিষেকের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনার সময় উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে অভিষেক দাবি করেন, গত ছয় মাসে তাঁকে সাতবার খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। এর আগেও ১৯ জুন সোনারপুরে তাঁর ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এক নির্বাচিত সাংসদের বাসভবনের সামনে এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। পাশাপাশি, বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এই ঘটনার একদিন আগেই অভিষেক নিজের বাড়ি ও অফিসের ওপর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের নজরদারির (রেইকি) অভিযোগ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের পুলিশকর্মী বলে দাবি করে। এই নজরদারির বিষয়টি তিনি লোকসভার স্পিকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও কলকাতা পুলিশের নজরে এনেছিলেন।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ এই ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ফুটপাতে জন্মদিন পালন করলে মানুষ প্রতিবাদ করবেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুন করার মতো সময় বা আগ্রহ কারও নেই।” দিলীপ ঘোষের মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে ও জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই ধরণের আবেগঘন বক্তব্য পেশ করা হচ্ছে।

কালীঘাটে এই সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *