খুলনা স্টেশনে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি ও আপত্তিকর পোস্টার, তীব্র নিন্দার ঝড়!

খুলনা স্টেশনে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি ও আপত্তিকর পোস্টার, তীব্র নিন্দার ঝড়!

 

খুলনায় রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি বিকৃতি: এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, শুরু তদন্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা, খুলনা: খুলনা রেল স্টেশনের সীমানা প্রাচীরে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি লেপে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। শুক্রবার সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে তৈরি ওই দেওয়ালচিত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও ফকির লালন শাহ, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মধুসূদন দত্তসহ বাংলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতিকৃতি ছিল। এছাড়া সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের নানা দৃশ্যও সেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। বিস্ময়করভাবে, অন্য কোনো প্রতিকৃতি অক্ষত থাকলেও কেবল রবীন্দ্রনাথের মুখমণ্ডল কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতির দুই পাশে দুটি পোস্টার লাগানো পাওয়া যায়। সেখানে কবিকে ‘মুসলিম ও পূর্ববঙ্গ বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তাঁর স্থান ‘তিতুমীরের বাংলায় নেই’ বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের গৌরব প্রচারের বিরোধিতাও করা হয়েছে ওই পোস্টারে।

এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে শুক্রবার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকায় সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “একটি ছবি নষ্ট করে কোনো ব্যক্তিত্বকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা যায় না। এই চিত্রকর্মগুলো শিশু-কিশোরদের মধ্যে মুক্তচিন্তার বিকাশে সহায়ক।”

এদিকে, শনিবার দুপুর থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পুনরায় রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি আঁকার কাজ শুরু হয়েছে। শিল্পী রেজাউল করিমের তত্ত্বাবধানে প্রতিকৃতিটি সংস্কারের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে দেওয়ালচিত্রটি রক্ষার জন্য নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ঢাকায় রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি বিকৃতির ঘটনা ঘটেছিল, যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। বর্তমান ঘটনায় ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *