ভোট চুরির অভিযোগ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক, বিস্ফোরক প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার!

বাংলার ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) অবৈধ: এস ওয়াই কুরেশি
কলকাতা: ভারতের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা ‘এসআইআর’ (SIR)-কে ‘ভুয়ো ও অন্যায্য’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। কলকাতার এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন যে, এই প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হওয়া বাংলার নির্বাচন ‘অবৈধ’।
প্রয়াত প্রাক্তন স্পিকার হাসিম আবদুল হালিমের স্মারক বক্তৃতায় যোগ দিয়ে কুরেশি বলেন, নির্বাচন কমিশন মানেই কেবল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নন, বরং কমিশনের সব সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণই সাংবিধানিক নিয়ম। তিনি জানান, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার ‘ম্যাপিং’ করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’।
দেশের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নামে যেভাবে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ৪৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মুসলিম ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন। কুরেশি বলেন, “ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হওয়া উচিত মানুষকে যুক্ত করার, বাদ দেওয়ার নয়।”
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে এনআরসি (NRC)-এর যোগসূত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কুরেশি বলেন, “অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন এসআইআর কি পিছনের দরজা দিয়ে এনআরসি চালু করার চেষ্টা? আমি বলব, এটি সামনের দরজা দিয়েই হয়েছে। এসআইআর হলো এনআরসির জনক।”
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভোটার অ্যাপ্লিকেশন ফর্মে নিজের নাগরিকত্বের বিষয়ে আবেদনকারীর দেওয়া স্বীকারোক্তিই চূড়ান্ত প্রমাণ। যদি সেই স্বীকারোক্তি ভুল প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী দণ্ডবিধি রয়েছে। কিন্তু ঢালাওভাবে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি তিনি মেনে নিতে পারেননি। বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন থাকায়, আদালতই এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ওই অনুষ্ঠানে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষও উপস্থিত ছিলেন।