টলিউডে ফের শোকের ছায়া, প্রয়াত অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর মা দীপালি চক্রবর্তী

টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে শোকের আবহ যেন কিছুতেই কাটছে না। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এল আরও এক দুঃসংবাদ। প্রয়াত হলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী বিশিষ্ট অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর মা দীপালি চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে স্টুডিওপাড়ায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গুরুতর ব্রেন হেমোরেজ নিয়ে দীপালিদেবীকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রথম থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, বয়সজনিত কারণে এবং শারীরিক জটিলতা বাড়ায় তাঁর শরীরে ওষুধের প্রতিক্রিয়া কমে এসেছিল। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে আজ চিরবিদায় নিলেন তিনি।
সুদীপ্তা চক্রবর্তীর পরিবার দীর্ঘকাল ধরে বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির জগতের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। তাঁর বাবা প্রয়াত বিপ্লবকেতন চক্রবর্তী ছিলেন বাংলা থিয়েটারের এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। ২০১৮ সালে বিপ্লববাবুর প্রয়াণের পর মা দীপালিদেবীই ছিলেন পুরো পরিবারের প্রধান অভিভাবক ও শক্তির উৎস। তাঁর চলে যাওয়া চক্রবর্তী পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
দীপালিদেবী নিজে একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পী ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিন কন্যা— বিদীপ্তা, সুদীপ্তা ও সুদেষ্ণাকে অভিনয় এবং শিল্পকলার পথে এগিয়ে যেতে তিনি আজীবন অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন। তাঁর উৎসাহেই তিন বোন আজ টলিউডের সুপ্রতিষ্ঠিত মুখ। পর্দার আড়ালে থাকলেও চক্রবর্তী পরিবারের সাংস্কৃতিক আবহে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
গত রবিবারই ওড়িশার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই শোকস্তব্ধ পরিবেশের মধ্যেই সুদীপ্তার মাতৃবিয়োগের সংবাদে বিনোদন জগতে বিষাদের সুর আরও ঘনীভূত হয়েছে। সহকর্মী থেকে শুরু করে গুণমুগ্ধরা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বর্তমানে প্রয়াত দীপালি চক্রবর্তীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে পরিবার সূত্রে খবর। বাংলার নাট্য ও চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পরপর দুই নক্ষত্রপতন ও স্বজন হারানোর বেদনায় মূহ্যমান টালিগঞ্জ।