ফ্যাটি লিভার জয় করে সুস্থ হৃতিকের বোন সুনয়না রোশন, কীভাবে অসাধ্য সাধন করলেন জানুন

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমানে লিভারে অতিরিক্ত মেদ জমার সমস্যা বা ফ্যাটি লিভার ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে। এই রোগটি মূলত দুই প্রকারের হয়— নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার এবং অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। সম্প্রতি বলিউড সুপারস্টার হৃতিক রোশনের বোন সুনয়না রোশন তার কঠিন শারীরিক পরিস্থিতির কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি গ্রেড ৩ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ছিলেন, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে বেশ জটিল একটি পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।
সুনয়না রোশন জানান, এক সময় তার খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের ধরন ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। জাঙ্ক ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আসক্তি এবং নিয়মিত মদ্যপানের ফলে তার লিভারের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। গ্রেড ৩ ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি থাকলেও তিনি হাল ছাড়েননি। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তিনি প্রথমেই তার দৈনন্দিন তালিকা থেকে মদ্যপান এবং বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার চিরতরে বাদ দেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
সুস্থ হয়ে ওঠার এই লড়াইয়ে সুনয়নার প্রধান অস্ত্র ছিল কঠোর শৃঙ্খলা এবং সুষম ডায়েট। তিনি সম্পূর্ণভাবে ঘরোয়া খাবারের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেন। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার বর্জন করে প্রোটিন, ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারকে প্রাধান্য দেন। তার এই পরিবর্তন কেবল ওজন কমাতেই সাহায্য করেনি, বরং লিভারে জমে থাকা ক্ষতিকারক ফ্যাট বা মেদ গলাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। এই শৃঙ্খলা বজায় রাখা ছিল তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ছিল সুনয়নার সুস্থতার অন্যতম মূল চাবিকাঠি। নির্দিষ্ট ব্যায়াম এবং শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি তার মেটাবলিজম উন্নত করেন। লিভারের কার্যকারিতা স্বাভাবিক করতে এবং শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। তার এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তন এখন অনেক রোগীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা লিভারের সমস্যায় ভুগছেন এবং সুস্থ হওয়ার পথ খুঁজছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভারের সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এবং জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সুনয়না রোশনের দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে যে, কোনো নামী ওষুধ বা ব্যয়বহুল চিকিৎসার চেয়েও বেশি কার্যকরী হলো জীবনযাপনের সঠিক মানদণ্ড বজায় রাখা। অ্যালকোহল ত্যাগ করা এবং বাইরের খাবারের বদলে বাড়ির সাধারণ খাবার গ্রহণ করলে লিভারের কোষগুলো পুনরুজ্জীবিত হতে শুরু করে।
পরিশেষে, সচেতনতাই হলো এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং লিভারের এনজাইমগুলোর ওপর নজর রাখা জরুরি। সুনয়না রোশন এখন সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। তার এই জয় মূলত ইচ্ছাশক্তি এবং নিয়মনিষ্ঠার জয়। সাধারণ মানুষের জন্য তার বার্তা পরিষ্কার— নিজের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে এবং সঠিক সময়ে সচেতন হয়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে যেকোনো কঠিন ব্যাধি জয় করা সম্ভব।