শ্রীদেবীকে নিয়ে ‘ঘরভাঙা’ অপবাদ ও মায়ের মৃত্যুশোক, আজও ট্রমার কবলে জাহ্নবী কাপুর

শ্রীদেবীকে নিয়ে ‘ঘরভাঙা’ অপবাদ ও মায়ের মৃত্যুশোক, আজও ট্রমার কবলে জাহ্নবী কাপুর

বলিউড সুপারস্টার শ্রীদেবীর আকস্মিক প্রয়াণের আট বছর পার হতে চললেও সেই গভীর মানসিক আঘাত আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁর কন্যা জাহ্নবী কাপুর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন লড়াই ও পারিবারিক যন্ত্রণার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। ২০১৮ সালে যখন শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়, তখন জাহ্নবীর বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। সেই সময়ে প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে জনসমক্ষে চলা তীব্র সমালোচনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল।

রাজ শামানির ইউটিউব চ্যানেলে জাহ্নবী জানান, মাকে হারানোর পর রাতারাতি তাঁকে প্রাপ্তবয়স্কের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল। আগে ছোটখাটো প্রতিটি বিষয়ে শ্রীদেবীর ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, হঠাৎ করেই সব সিদ্ধান্ত একা নেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামনে আসে। জাহ্নবী আক্ষেপের সুরে বলেন, ওই কঠিন সময়ে তিনি বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং ভুল মানুষকে জীবনে জায়গা দিয়েছিলেন। এমনকি তাঁর বাবা বনি কাপুরের মধ্যেও এক বিশাল পরিবর্তন লক্ষ করেছিলেন তিনি, যা তাঁকে আরও নিঃসঙ্গ করে তুলেছিল।

মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জাহ্নবী অতীতের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, শ্রীদেবীকে একসময় ‘ঘরভাঙা’ অপবাদের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, যা কিংবদন্তি অভিনেত্রীকে গভীরভাবে মর্মাহত করত। জাহ্নবীর মতে, চার বছর বয়স থেকে কাজ শুরু করা তাঁর মায়ের জীবনসংগ্রাম ছোটবেলায় তিনি বুঝতে পারেননি। সমাজ শ্রীদেবীকে বিচার করলেও তিনি সন্তানদের কাছে কষ্টের কথা গোপন রেখেছিলেন। জাহ্নবী মনে করেন, বর্তমান সমাজ প্রয়াত মানুষদের প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল হলেও সেই পুরনো ট্রমা তাঁর পিছু ছাড়েনি।

বর্তমানে জাহ্নবী নিজের স্বকীয়তায় বলিউডে জায়গা করে নিলেও মায়ের অভাব প্রতি মুহূর্তে অনুভব করেন। তিনি মনে করেন, সময়ের সাথে সাথে তাঁর ব্যক্তিত্বে যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে আজ শ্রীদেবী বেঁচে থাকলে হয়তো মেয়েকে চিনতেই পারতেন না। মায়ের অকাল প্রয়াণ এবং সেই কেন্দ্রিক বিতর্কিত সামাজিক চর্চা যে আজও তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, জাহ্নবীর কথায় তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *