মাটন বলে গোমাংস পরিবেশন! পার্কস্ট্রিটের নামী রেস্তোরাঁয় হুলুস্থুল, ক্ষুব্ধ অভিনেতা সায়ক

কলকাতার হৃদপিণ্ড পার্কস্ট্রিটের এক অভিজাত রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হলেন জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা ও ইউটিউবার সায়ক চক্রবর্তী। অভিযোগ, অর্ডার করা হয়েছিল ‘মাটন স্টেক’, কিন্তু অভিনেতাকে পরিবেশন করা হয় ‘বিফ স্টেক’। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে শহরজুড়ে। সায়কের অভিযোগ, তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিষিদ্ধ মাংস খাইয়ে ধর্ম নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: কী ঘটেছিল শুক্রবার রাতে?
শুক্রবার রাতে দুই বন্ধুর সঙ্গে পার্কস্ট্রিটের ওই নামী রেস্তোরাঁয় ডিনার করতে গিয়েছিলেন সায়ক। সেখানে তাঁরা ‘মাটন স্টেক’ অর্ডার করেন। সায়কের দাবি, টেবিলের ওপর সার্ভ করা ডিশটি তাঁরা মাটন মনে করেই খেতে শুরু করেন। কিন্তু প্রথম পদটি শেষ হওয়ার পর যখন দ্বিতীয় একটি ডিশ নিয়ে আসা হয়, তখন কর্মীরা জানান যে আগেরটি ছিল ‘বিফ’। এই কথা শোনা মাত্রই স্তম্ভিত হয়ে যান অভিনেতা ও তাঁর বন্ধুরা।
“আমি ব্রাহ্মণ, জেনেবুঝে ধর্ম নষ্ট করা হয়েছে”
ঘটনার পরই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন সায়ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিওতে তাঁকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ অবস্থায় দেখা যায়। সায়ক ওই রেস্তোরাঁর কর্মীকে প্রশ্ন করেন, “আমি মাটন অর্ডার করলাম, আপনি বিফ শুনলেন কীভাবে? আপনি জানেন আমি ব্রাহ্মণ? জেনেবুঝে আমাদের গোমাংস খাইয়ে দিলেন!”
ভিডিওতে অভিযুক্ত কর্মীকে তাঁর ধর্মের কথা জিজ্ঞাসা করেন সায়ক। ওই কর্মী নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিলে সায়ক পালটা প্রশ্ন করেন, “আপনাকে যদি মাটন বলে শূকরের মাংস (পোর্ক) খাওয়ানো হয়, আপনি কি খাবেন? আপনি আমাদের গোমাতাকে খাইয়ে দিলেন!” রেস্তোরাঁ ম্যানেজারকেও একহাত নেন তিনি। কলকাতায় প্রকাশ্য দিবালোকে কীভাবে এমন ঘটনা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সায়ক।
পুলিশি তৎপরতা ও আটক
ঘটনার পর সায়ক চক্রবর্তী পার্কস্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, সায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই রেস্তোরাঁর সংশ্লিষ্ট কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি মেলেনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়
সায়ক নিজেই গোটা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশ এই ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি ও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। একজন পেশাদার রেস্তোরাঁয় এই ধরণের ভুল বা ‘ষড়যন্ত্র’ মেনে নেওয়া যায় না বলে দাবি করছেন অভিনেতার অনুরাগীরা।