অকাল বৃষ্টিতে মাথায় হাত চাষিদের, দ্রুত ক্ষতিপূরণের কড়া নির্দেশ দিলেন যোগী আদিত্যনাথ

উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় অকাল বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং অগ্নিকাণ্ডের জেরে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বুধবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকদের ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিপর্যয়ের এই আবহে কৃষকদের চিন্তিত হওয়া স্বাভাবিক, তবে সরকার সব পরিস্থিতিতেই অন্নদাতাদের পাশে রয়েছে।” ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, রাজস্ব ও কৃষি দপ্তর যৌথভাবে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জমির নিরপেক্ষ সমীক্ষা চালাবে। জেলা প্রশাসনকে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে যাতে ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছাতে দেরি না হয়। পাশাপাশি, বিমা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে কৃষকদের প্রাপ্য টাকা দ্রুত মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় ত্রাণ তহবিল থেকে জেলাগুলিতে ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রেখে সরাসরি কৃষকদের হাতে এই সাহায্য পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বা পশুপক্ষীর ক্ষতি হলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি যাদের বাড়ি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ‘মুখ্যমন্ত্রী আবাস যোজনা’র আওতায় নতুন ঘর তৈরি করে দেবে রাজ্য সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে ‘কৃষক দুর্ঘটনা বিমা যোজনা’র সুবিধাও দ্রুত পান, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে জেলাশাসকদের। কঠিন সময়ে কৃষকদের মনোবল জোগাতে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে উত্তরপ্রদেশ সরকার এই আপদকালীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।