অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশের স্বার্থ, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য তারেকের

অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশের স্বার্থ, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য তারেকের

ঢাকা: ভোটপ্রচারে ঘোষণা করেছিলেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরেও একই কথা বললেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে দিল্লিকেও বার্তা দিলেন তিনি। জানালেন, বাংলাদেশের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই আগামী দিনে ভারতের সঙ্গে বিদেশনীতি ঠিক করা হবে। তাঁর কথায়, ভারত, চীন ও পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলির সঙ্গে ভারসাম্যের সম্পর্ক বজায় রেখে চলবে বাংলাদেশ। এর আগেও বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন এই নীতি নেওয়া হয়েছিল। কোনো দেশকেই ‘প্রভু’ বলে মানা হবে না। শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরানোর বিষয়ে তারেক জানান, এটি আইনি প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করছে।


ভোটে জেতার পর শনিবার বিকেলে ঢাকায় প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করেন তারেক। সেখানে তিনি বলেন, ‘এই বিজয় বাংলাদেশের। এই বিজয় গণতন্ত্রকামী জনগণের।’ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফেরানোর উপরে সবচেয়ে বেশি জোর দেন তারেক। নেতা-কর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তারেকের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি ‘সৌহার্দ্যের বার্তা’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। যেতে পারেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করও। নির্বাচনে জয়ের জন্য তারেক রহমান ও বিএনপিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মোদি। শনিবার রাতে বিএনপির তরফে পালটা ধন্যবাদ জানানো হয় মোদিকে। ভারতের পাশাপাশি চীন, আমেরিকা, ব্রিটেন, তুরস্ক ও সার্কভুক্ত দেশগুলিকেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।  সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। এবারে প্রথম শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। 
ভোট গণনা সম্পূর্ণ করে এদিনই গেজেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। গেজেট অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতেই জয়ী হয়েছে তারেকের দল। তবে, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক ও অন্য এমপিদের কে শপথবাক্য পাঠ করাবেন, তা নিয়ে জটিলতা কাটেনি। তবে সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অবর্তমানে প্রধান বিচারপতি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার নতুন এমপিদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি জানান, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতিই।


এদিন তারেক বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। দলমত, ধর্ম-বর্ণ বা ভিন্নমত—কোনো অজুহাতেই দুর্বলের উপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না।’ জামাত, এনসিপি সহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তারেক। অন্য দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তাভাবনা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ এবং মত ভিন্ন থাকতে পারে কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *