অজানা গন্তব্যে রেলের ‘কবচ’ প্রযুক্তি: পিএসি-র তীব্র সমালোচনার মুখে রেলমন্ত্রক

রেলপথে দুর্ঘটনারোধে অত্যাধুনিক ‘কবচ’ প্রযুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় রেলমন্ত্রককে তীব্র ভর্ৎসনা করল সংসদীয় পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)। কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপালের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি সম্প্রতি সংসদে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই প্রযুক্তি নিয়ে একাধিক আশার বাণী শোনালেও আদতে সারা দেশে তা কবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে রেলের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।
কমিটির সুপারিশ সত্ত্বেও রেলমন্ত্রক তাদের ‘অ্যাকশন টেকেন নোটে’ কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার উল্লেখ করেনি। তবে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দিল্লি-মুম্বই ও দিল্লি-হাওড়া রুটের প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার অংশে ‘কবচ ৪.০’ সংস্করণের কাজ চলছে। এর আগে দক্ষিণ-মধ্য রেলের কিছু অংশে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। বর্তমানে অধিক ট্রেন চলাচলকারী রুটগুলোকে (হাই-ডেনসিটি নেটওয়ার্ক) অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে মন্ত্রক দাবি করেছে।
শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নয়, যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ট্রেনের কোচে অগ্নি-নিরাপত্তা বা ফায়ার সেফটি অডিট নিয়েও রেলকে সতর্ক করেছে পিএসি। কমিটি সুপারিশ করেছে যে, স্বচ্ছতার খাতিরে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা থার্ড পার্টি সংস্থাকে দিয়ে এই সমীক্ষা করানো উচিত। পাশাপাশি, ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে ৩০ দিনের মধ্যে বিভাগীয় তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংসদীয় রিপোর্টে।