অতিরিক্ত খাবার বা মিষ্টির নেশা? জেনে নিন শরীরের লুকানো সংকেত

অতিরিক্ত খাবার বা মিষ্টির নেশা? জেনে নিন শরীরের লুকানো সংকেত

রাত বাড়লেই চকোলেট, চিপস বা চটপটে খাবারের তীব্র ইচ্ছা আসলে নিছক কোনো লোভ নয়, বরং শরীরের বিশেষ বার্তা। চিকিৎসক ডাঃ অরবিন্দ বাদিগের মতে, মিষ্টি বা নোনতা খাবারের এই ‘ক্রেভিং’ মূলত জৈবিক ও মানসিক কারণের ফল। মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সেন্টারে ডোপামিন নিঃসরণের মাধ্যমে এই খাবারের সঙ্গে আনন্দের অনুভূতি যুক্ত হয়। এছাড়া ঘুমের অভাব বা অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে ঘ্রেলিন ও লেপটিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও অকারণে ক্ষুধা বাড়ে।

রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে শরীর দ্রুত শক্তির জন্য চিনির খোঁজ করে, যা সাময়িকভাবে সেরোটোনিন বাড়িয়ে মন ভালো রাখে। তবে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে, নোনতা খাবারের প্রতি প্রবল আকর্ষণ শরীরের জলশূন্যতা বা ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত হতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম বা কম জল পান করার ফলে এমনটি ঘটে, যা দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মানসিক চাপ বা একঘেয়েমি কাটাতেও অনেকে মুখরোচক খাবারের দিকে হাত বাড়ান। চিবোনোর অভ্যাস অনেক সময় টেনশন রিলিজে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে লড়াই না করে কারণটি বোঝা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত সঠিক সময়ে আহার, প্রচুর জল পান এবং মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই অনিয়ন্ত্রিত ক্রেভিং কমিয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব। কখন শরীর সত্যিই ক্ষুধার্ত আর কখন এটি নিছক ইচ্ছা, তা বুঝতে পারলেই সমাধান সহজ হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *