অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহে ভারতের কাছে বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধ

বাংলাদেশ বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে, যার ফলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়সহ একাধিক জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত সরবরাহের পাশাপাশি অতিরিক্ত ডিজেল চেয়েছে ঢাকা। সম্প্রতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে অতিরিক্ত ৫,০০০ টন ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে।
ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আগামী চার মাসে মোট ৫০ হাজার টন অতিরিক্ত ডিজেল পাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১,৮০,০০০ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট অভাবনীয় সংকট কাটাতে অতিরিক্ত এই জ্বালানি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারত সরকার জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশের এই আবেদনটি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে অতিরিক্ত সরবরাহের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতের অভ্যন্তরীণ তেলের মজুদ, চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক কূটনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতায় বিশেষ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।