অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম কাড়ছে শিশুদের কথা বলার ক্ষমতা: সতর্ক হচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম কাড়ছে শিশুদের কথা বলার ক্ষমতা: সতর্ক হচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

বর্তমান যুগে শিশুদের শান্ত রাখতে হাতে মোবাইল বা ট্যাব তুলে দেওয়ার প্রবণতা এক নীরব বিপদের সৃষ্টি করছে। চিকিৎসকদের মতে, জীবনের প্রথম তিন বছর শিশুর ভাষাগত বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তারা অনুকরণ ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে কথা বলতে শেখে। কিন্তু ডিজিটাল স্ক্রিন একমুখী হওয়ায় শিশুরা কেবল দৃশ্য দেখে, কোনো পারস্পরিক কথোপকথনের সুযোগ পায় না। ফলে তাদের মস্তিষ্কের ভাষা শেখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক শিশু নির্দিষ্ট বয়সের তুলনায় দেরিতে কথা বলছে।

একটি শিশু সাধারণত এক বছর বয়সে শব্দ চেনা এবং দুই বছরের মধ্যে ছোট বাক্য গঠন করতে শুরু করে। যদি এই মাইলস্টোনগুলো অর্জিত না হয় বা শিশু কেবল ইশারায় যোগাযোগ করতে চায়, তবে তা উদ্বেগের বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত। এমনকি শিক্ষামূলক ভিডিও-ও মানুষের সরাসরি সান্নিধ্য ও অনুভূতির বিকল্প হতে পারে না। খাওয়ার সময় বা খেলার সময় গ্যাজেটমুক্ত রাখা এবং শিশুদের সাথে সরাসরি কথা বলা তাদের বিকাশে সহায়ক।

এই সমস্যা মোকাবিলায় অভিভাবকদের সচেতনতা এবং নিজেদের ডিজিটাল অভ্যাসের পরিবর্তন জরুরি। যদি শিশুর কথা বলায় অস্বাভাবিক বিলম্ব লক্ষ্য করা যায়, তবে দেরি না করে অভিজ্ঞ পেডিয়াট্রিশিয়ান বা স্পিচ থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশুদের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলা এবং তাদের প্রতিক্রিয়ায় সাড়া দেওয়া শব্দ শেখার প্রধান চাবিকাঠি। স্ক্রিনের কৃত্রিম শব্দের চেয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে কাটানো গুণগত সময় শিশুর মানসিক ও ভাষাগত ভিত মজবুত করতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *