অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কি অটিজমের কারণ? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের আসল মতামত

ডিজিটাল যুগে শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের ক্রমবর্ধমান হার অভিভাবকদের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের অটিজমের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। তবে শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অটিজম মূলত একটি জেনেটিক ও জৈবিক স্নায়ুবিক বিকাশজনিত অবস্থা। অর্থাৎ, স্ক্রিন ব্যবহার সরাসরি অটিজম সৃষ্টি করে না।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ ও ভাষা শেখার দক্ষতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে দেরিতে কথা বলা বা চোখে চোখ না রাখার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, যা অনেক সময় অটিজমের মতো মনে হয়। বিশেষজ্ঞরা একে “ভার্চুয়াল অটিজম” বলছেন। তবে সঠিক সময়ে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে শিশুকে সামাজিক পরিবেশে সক্রিয় করলে এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য ২ বছরের কম বয়সীদের স্ক্রিন থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া বা প্রতিক্রিয়াহীনতার মতো লক্ষণ দেখলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের খেলাধুলা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তোলাই হবে সঠিক সমাধান। তাই স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন সচেতনতার মূল মন্ত্র।