অদৃশ্য পোকার কামড়ে চর্মরোগের আতঙ্ক, লোকলজ্জার ভয়ে সিঁটিয়ে রোগীরা জানুন বাঁচার উপায়

প্রকৃতিতে মিশে থাকা অসংখ্য কীটপতঙ্গের মধ্যে এমন কিছু অতি ক্ষুদ্র জীব রয়েছে, যা মানুষের শরীরে মারাত্মক অস্বস্তি ও চর্মরোগের কারণ হতে পারে। সম্প্রতি এমনই এক অদৃশ্য পোকার উপদ্রব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যার কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তি লোকসমাজে বের হতেও কুণ্ঠাবোধ করছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই চর্মরোগকে ‘স্ক্যাবিস’ বা খোসপাঁচড়া বলা হয়। মূলত ‘ইচ মাইটস’ নামক এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র আট পা বিশিষ্ট পোকার সংক্রমণে এই চর্মরোগের সৃষ্টি হয়, যা খালি চোখে দেখা প্রায় আসাম্ভব।
এই অণুজীবটি মানুষের সংস্পর্শে আসার পর ত্বকের উপরিভাগের নিচে বাসা বাঁধে এবং সেখানে ডিম পাড়ে। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির সারা শরীরে তীব্র চুলকানি অনুভূত হয়, যা বিশেষ করে রাতের বেলা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শুধু চুলকানিই নয়, ত্বকের ওপর ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা ফোসকাও দেখা দিতে পারে। এই বাহ্যিক লক্ষণের কারণে আক্রান্তরা মানসিকভাবে হীনম্মন্যতায় ভোগেন এবং অন্যদের সামনে যেতে লজ্জাবোধ করেন। শিশু এবং বয়স্কদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
স্ক্যাবিস একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় এটি দ্রুত একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই সংক্রমণ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এই রোগের মূল কারণ। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানার চাদর এবং বালিশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে অন্যের ব্যবহৃত পোশাক বা তোয়ালে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বা লোকলজ্জার ভয়ে রোগ লুকিয়ে না রেখে শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক মলম বা ওষুধের ব্যবহারে এই অদৃশ্য পোকা ধ্বংস করা সম্ভব। মনে রাখবেন, ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং চারপাশের পরিচ্ছন্নতাই এই অস্বস্তিকর চর্মরোগ থেকে বাঁচার একমাত্র কার্যকরী পথ। নিয়মিত সাবান দিয়ে স্নান করা এবং কড়া রোদে জামাকাপড় শুকানো এই রোগের বিস্তার রোধে অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।