অনিশ্চয়তার মুখে সংস্কার! অন্তর্বর্তী সরকারের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ কি তবে বাতিল হতে চলেছে

অনিশ্চয়তার মুখে সংস্কার! অন্তর্বর্তী সরকারের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ কি তবে বাতিল হতে চলেছে

বাংলাদেশে সংস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘনিয়ে আসছে অনিশ্চয়তা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ হুবহু আইনে রূপ দিতে সরাসরি আপত্তি তুলেছে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এর মধ্যে গুম প্রতিরোধ, বিচার ব্যবস্থা সংস্কার এবং মানবাধিকার কমিশনের মতো সংবেদনশীল ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রয়েছে। ১০ এপ্রিলের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে পাস না হলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর বা তামাদি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

বিএনপি গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের মতে, অধ্যাদেশগুলো জারির সময় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঠিক প্রতিনিধিত্ব ছিল না। দলটির দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতার পরিধি নিয়ে আইনি দুর্বলতা রয়েছে। সংসদ সার্বভৌম হওয়ায় তড়িঘড়ি করে এগুলো পাস না করে আরও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকারি দল। বিএনপি বলছে, তারা সংস্কারের বিরোধী নয়, বরং এগুলোকে আরও শক্তিশালী করে ভবিষ্যতে বিল আকারে আনতে চায়।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) এবং মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, গুম প্রতিরোধ বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে ‘পর্যালোচনার ফাঁদে’ ফেলা আত্মঘাতী হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, অধ্যাদেশগুলো তামাদি হয়ে গেলে সংস্কারের পুরো প্রক্রিয়াটি আবারও ২০২৪ সালের আগের দুর্বল কাঠামোতে ফিরে যাবে। ফলে সংস্কার বনাম রাজনীতির এই লড়াই এখন দেশের আইনি ও প্রশাসনিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *