অনুপ্রবেশ মুক্ত করে সুশাসিত আত্মনির্ভর বাংলা গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রী মোদীর

অনুপ্রবেশ মুক্ত করে সুশাসিত আত্মনির্ভর বাংলা গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রী মোদীর

কোচবিহারের জনসভা থেকে আত্মনির্ভর বাংলা গড়ার লক্ষ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার করতে বিজেপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বাংলার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে ডাবল ইঞ্জিন সরকারই একমাত্র সমাধান। উন্নয়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী শক্তিকে উপড়ে ফেলে আধুনিক বাংলা তৈরির অঙ্গীকার শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে।

এদিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের শাসক দল ভোট লুট এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে আমজনতাকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী যতই ভয় দেখানোর চেষ্টা করুক না কেন, সাধারণ মানুষ যেন আইনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। মোদীর বিশ্বাস, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলা থেকে ভয়ের রাজনীতি বিদায় নেবে এবং বিজেপির জয় নিশ্চিত হবে।

সন্ত্রাসের মোকাবিলা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করার দিন শেষ হতে চলেছে। যারা অশান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে বাধা দিতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বাংলার মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধই পারে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটাতে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মোদী বিরোধীদের হিসাব নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর অপরাধীদের সব পাপের হিসাব নেওয়া হবে এবং যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। বেছে বেছে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। এই মন্তব্যে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সবশেষে তিনি স্থানীয় উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো তৃণমূল সরকার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে দিচ্ছে না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই বঞ্চনার অবসান ঘটবে। আত্মনির্ভর বাংলা গড়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে বিজেপির সমর্থনে ভোট প্রার্থনা করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *