অপারেশন থিয়েটারে প্রসবের প্রতিযোগিতা, হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাণ্ড দেখে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

অপারেশন থিয়েটার যেখানে মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচানোর শেষ আশ্রয়স্থল, সেখানে সিজারিয়ান অপারেশন (C-Section) নিয়ে চিকিৎসকদের এক ভয়ানক ‘প্রতিযোগিতার’ ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। পাকিস্তানের লাহোরস্থ লেডি উইলিংডন হাসপাতালে দুই দলের মধ্যে দ্রুত অস্ত্রোপচার শেষ করার এই তথাকথিত লড়াই প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নেপথ্যের কিছু মানুষের উস্কানিতে চিকিৎসকরা অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে দুই প্রসূতির অস্ত্রোপচার সারছেন, যা চিকিৎসার নৈতিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। অনেকের মতে, রোগীর জীবন নিয়ে এই ধরনের ছেলেখেলা কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীনতাই নয়, বরং অপরাধের শামিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জোরালো হচ্ছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, যেখানে প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত সংবেদনশীল, সেখানে রোগীদের নিরাপত্তাকে তোয়াক্কা না করে কীভাবে অপারেশন থিয়েটারকে প্রতিযোগিতার ময়দান বানিয়ে ফেলা সম্ভব?
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। লেডি উইলিংডন হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট জানিয়েছেন, ভিডিওটি কীভাবে রেকর্ড করা হলো এবং অস্ত্রোপচারের সময় সত্যিই এমন কোনো নিয়মবহির্ভূত প্রতিযোগিতা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং আজীবন বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
لاہور ، ولنگڈن ہسپتال : آپریشن تھیٹر میں ڈاکٹرز کے دمیان مقابلہ بازی
— Adil Nizami (@AdilNizami10) March 27, 2026
جلد بازی میں جانئں ضائع ہو سکتی ہیں ، ایسی سنجیدہ جگہ پر مقابلے بازی کیسے ہو سکتی ہے ؟ آپریشن تھیٹر میں ویڈیو بنانے کی اجازت بھی نہیں ہے pic.twitter.com/KfBL8HqnoX
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন থিয়েটারে ভিডিও ধারণ করা রোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন। দ্রুত অস্ত্রোপচার শেষ করার প্রবণতা প্রসূতি ও নবজাতক উভয়ের জীবনের জন্যই বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। লাহোরের এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থার মান ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে আছেন সাধারণ মানুষ, যাতে এমন অমানবিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয়।