অবসান এক বর্ণময় রাজনৈতিক অধ্যায়ের, প্রয়াত মালদহ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা আবু হাসেম খান চৌধুরী

মালদহের রাজনীতিতে নক্ষত্রপতন। প্রয়াত হলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী, রাজনৈতিক মহলে যিনি ‘ডালু’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। বুধবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ জননেতা। তাঁর প্রয়াণে জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার তাঁর মরদেহ কলকাতা থেকে মালদহে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেই পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। ডালু চৌধুরীর প্রয়াণের খবর পাওয়ামাত্রই রাতেই হাসপাতালে পৌঁছে যান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ দলের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তবে দুঃখজনকভাবে, বাবার জীবনের শেষ মুহূর্তে তাঁর পাশে থাকতে পারেননি পুত্র তথা কংগ্রেস নেতা ইশা খান চৌধুরী। লোকসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় তাঁর এই প্রস্থান মালদহ কংগ্রেসের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বরকতুল্লাহ গণি খান চৌধুরীর হাত ধরেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল আবু হাসেম খান চৌধুরীর। দাদার প্রয়াণের পর অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জেলার কংগ্রেস সংগঠনকে আগলে রেখেছিলেন তিনি। তাঁর সংসদীয় কর্মজীবন অত্যন্ত উজ্জ্বল। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কালিয়াচক বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৯ সাল থেকে টানা মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হিসেবে মানুষের হয়ে কাজ করেছেন তিনি। মালদহের উন্নয়নে এবং কংগ্রেসের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।