অবৈধ অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে বহিষ্কারের হুঙ্কার শমীক ভট্টাচার্যের

অবৈধ অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে বহিষ্কারের হুঙ্কার শমীক ভট্টাচার্যের

হাওড়ার শ্যামপুরে আয়োজিত এক কর্মিসভায় বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার দলীয় কর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁরা রাজ্যে ‘বাংলাদেশি’ খুঁজতে নেমেছেন। তাঁর মতে, এ দেশ কোনো ধর্মশালা নয় যে যখন খুশি কেউ ঢুকে পড়বে। অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দেশ থেকে বহিষ্কার করার ডাক দিয়েছেন তিনি।

এদিন এসআইআর-এর প্রসঙ্গ তুলে শমীক দাবি করেন, বেনাগরিকদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। তাঁর যুক্তি, সেই উদ্বৃত্ত জমিতেই আগামী দিনে উন্নয়নের পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। গ্রাম সড়ক যোজনা বা সেচের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, শাসকদলের ‘ভালোবাসা’ মুক্ত না হলে স্থানীয় এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক সৌজন্যের ঊর্ধ্বে গিয়ে বিজেপি সভাপতি ভোটারদের উদ্দেশ্যে এক অভিনব বার্তা দেন। তিনি বলেন, যাঁদের পদ্ম প্রতীকে ভোট দিতে দ্বিধা আছে, তাঁরা প্রয়োজনে বাম হাত দিয়ে হলেও বিজেপির বোতাম টিপুন। নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে ভোটারদের মন টানতে এই কৌশলী আবেদন নজর কেড়েছে উপস্থিত জনমহলের।

বিরোধী জোটকেও তীব্র কটাক্ষ করেন শমীক। ফরওয়ার্ড ব্লককে ‘খাটতলার বিড়াল’ বলে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, সিপিএমের সঙ্গে থেকে তারা তেজ হারিয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যে কংগ্রেসের ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দেওয়াকে স্রেফ একটি ‘দুর্ঘটনা’ বলে অভিহিত করেন তিনি। তাঁর মতে, বিরোধীদের কোনো বাস্তব ভিত্তি এই মুহূর্তে বঙ্গে নেই।

মুর্শিদাবাদে সাম্প্রতিক গোলমালের পেছনে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গকে বিচ্ছিন্ন করার গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন বিজেপি সভাপতি। তিনি অভিযোগ করেন, যারা ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল লাইব্রেরি পুড়িয়েছিল, তারাই এই অশান্তির মূল হোতা। একইসঙ্গে ভিন রাজ্যে কর্মরত বাংলার শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সতর্ক করেন যে, কর্মসংস্থান না বাড়লে সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

রাজ্যের মানুষের রুটি-রুজির কথা মাথায় রেখে শ্যামপুর ও দাসপুরের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জোরালো আবেদন জানান তিনি। শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া অবস্থান ও অনুপ্রবেশ নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *