অবৈধ ফর্ম ৬ জমা নিয়ে অস্বস্তিতে কমিশন, সিসিটিভি ফুটেজ ও তালিকা প্রকাশের দাবি মানল সিইও

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকায় নাম তোলা সংক্রান্ত ‘ফর্ম ৬’ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এক নতুন মোড় নিল। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রতিনিধি। বৈঠকের পর শাসক দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বিধানসভা ভিত্তিক কতগুলি ফর্ম ৬ জমা পড়েছে এবং কারা তা জমা দিয়েছেন, সেই তালিকা ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করতে রাজি হয়েছে কমিশন।
তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ফর্ম ৬ অবৈধভাবে জমা পড়েছে বলে তাদের অভিযোগ। শুরুতে কমিশন এই বিষয়ে কর্ণপাত না করলেও শুক্রবারের বৈঠকের পর সুর নরম করেছে। এখন থেকে সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি কারা এই ফর্মগুলি জমা দিয়েছেন, তার বিস্তারিত তালিকাও প্রকাশ করা হবে। তবে কমিশনের এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে অরূপবাবু মন্তব্য করেন, “ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিইও দপ্তরে গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে, ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে রাজ্যের ভোটার তালিকায় বহিরাগতদের ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। তিনি দলীয় কর্মীদের এই প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই এই ইস্যুটি রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এবং শাসক দলের পক্ষ থেকে প্রমাণের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ৩১ মার্চ, যখন শুভেন্দু অধিকারী সিইও দপ্তরে গিয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, সেই সময় পূর্ব মেদিনীপুরের এক বিজেপি নেতা প্রায় ৪০০টি ফর্ম ৬ নিয়ে দপ্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেন, যা শাসক দলের নেতা-কর্মীদের নজরে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিইও দপ্তরের সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এবং বাইক ভাঙচুরের মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়।
বর্তমানে এই পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিশেষ সচিবের অধীনে তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী ৫ এপ্রিল এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। ভোটমুখী বাংলায় এই ফর্ম ৬ বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।