অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে গাফিলতির অভিযোগ প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে, এফআইআর করছে আর্টিস্ট ফোরাম

অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে গাফিলতির অভিযোগ প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে, এফআইআর করছে আর্টিস্ট ফোরাম

বাংলা টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্টুডিও পাড়ায়। তবে এই মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ টলিপাড়ার শিল্পী সংগঠন। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং সেটে চরম অব্যবস্থা ও গাফিলতির অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটল ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরাম। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই মৃত্যুর বিচার চেয়ে এফআইআর দায়ের করতে চলেছে।

ফোরামের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করার সময় উপস্থিত ছিলেন টলিউডের মহাতারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সহকর্মীর মৃত্যুতে শোকাতুর অভিনেতা সেটে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সরব হন। তিনি স্পষ্ট জানান, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো শিল্পীকে এভাবে অকালে চলে যেতে না হয়, তার জন্য পরিকাঠামোগত পরিবর্তন ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় একটি অত্যন্ত আবেগঘন কিন্তু কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “যে চলে গিয়েছে তাকে আর কোনোভাবেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু রাহুলের ছেলে সহজ যেন বড় হয়ে অন্তত এটা জানতে পারে যে, তার বাবা কেন অকালে চলে গেল।” কিংবদন্তি এই অভিনেতার কথায় পরিষ্কার যে, এই আইনি লড়াই কেবল শাস্তির জন্য নয়, বরং সত্য উদঘাটন এবং সিস্টেমের ত্রুটিগুলো সামনে আনার জন্য।

আর্টিস্ট ফোরামের অভিযোগ, শুটিং সেটে ন্যূনতম সুরক্ষা বিধি বজায় রাখা হয়নি। প্রযোজনা সংস্থার অব্যবস্থার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সংগঠনের সদস্যরা। দীর্ঘক্ষণ কাজ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাধীন ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে স্টুডিও পাড়ায়। রাহুলের মৃত্যুর পর সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার আইনি লড়াইয়ের রূপ নিচ্ছে।

বর্তমানে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলা বিনোদন জগতে শোকের পাশাপাশি তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এফআইআর দায়ের করার পাশাপাশি তারা শুটিং সেটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন গাইডলাইন তৈরির দাবি জানাবে। কোনোভাবেই যেন পেশাদারিত্বের নামে শিল্পীদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে না হয়, সেটিই এখন এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

সহজ ও তার পরিবারের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই দৃঢ় অবস্থানকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন নেটিজেন ও সহকর্মীরা। শুটিং সেটের অন্ধকার দিকগুলো এবার বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো টলিপাড়া এখন বিচারের অপেক্ষায় এবং শিল্পী মহলে নিরাপত্তার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *