অমিত শাহের জন্য তৃণমূলের রাজকীয় মেনু, তালিকায় কষা মাংস থেকে ইলিশ ভাপা

অমিত শাহের জন্য তৃণমূলের রাজকীয় মেনু, তালিকায় কষা মাংস থেকে ইলিশ ভাপা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ এবার পৌঁছে গেল রান্নাঘরে। বৃহস্পতিবার হাজরার সভামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে তিনি টানা ১৫ দিন বাংলায় থাকবেন। শাহের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘পর্যটক’ হিসেবে কটাক্ষ করে এক অভিনব রসিকতায় মেতেছে ঘাসফুল শিবির। অমিত শাহকে বাংলায় স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তাঁর জন্য একটি বিশেষ খাবারের তালিকাও সুপারিশ করেছে রাজ্যের শাসক দল।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে করা ওই পোস্টে লেখা হয়েছে, “অমিত শাহ বাংলায় ১৫ দিন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বেশ ভালো কথা। বাংলা পর্যটকদের দুহাত বাড়িয়েই স্বাগত জানায়। আপনি যতক্ষণ খুশি এখানে থাকুন, তবে আমাদের সেরা কিছু সুস্বাদু খাবার চেখে দেখতে ভুলবেন না যেন।” এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য সুপারিশ করা পদের তালিকায় মুড়ি ঘণ্ট, পাবদা মাছের ঝাল, ইলিশ ভাপা, চিংড়ি মালাইকারি, ভেটকি পাতুরি এবং কষা মাংসের মতো জিভে জল আনা বাঙালি খাবারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তৃণমূলের এই পোস্ট ঘিরেই এখন নেটপাড়ায় চর্চা তুঙ্গে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অমিত শাহকে পর্যটকের সঙ্গে তুলনা করে তৃণমূল মূলত তাঁকে ‘বহিরাগত’ তত্ত্বে বিঁধতে চেয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হাজরা মোড় থেকে রোড শো শুরুর আগে এক জনসভায় শাহ দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নই হবে বাংলায় তৃণমূল সরকারের পতনের সূচনা। এর পাল্টা হিসেবেই তৃণমূল এমন রসিকতাপূর্ণ অথচ তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিন সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “গতবার মমতা সরকার গড়লেও নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হেরেছিলেন। এবার তিনি গোটা বাংলাতেই হারবেন, এমনকী ভবানীপুরেও তাঁর পরাজয় নিশ্চিত।” বাংলার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বেকারত্ব এবং অনুপ্রবেশ ইস্যু তুলে ধরে তিনি বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার ডাক দেন। শাহের দাবি, বাংলার মানুষ তোলাবাজি ও গুণ্ডামিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এবং রাজ্যে পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছেন।

পাল্টা হিসেবে তৃণমূলের এই ‘খাবারের তালিকা’ পেশ করার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধীদের অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং হালকা চালে শাহের দীর্ঘ অবস্থানকে কটাক্ষ করাই ছিল শাসক দলের লক্ষ্য। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে বাগযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে। একদিকে যখন বিজেপি বাংলায় উন্নয়নের নতুন ঢেউ আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন অন্যদিকে তৃণমূল বাঙালি সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসকে হাতিয়ার করে পালটা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।

সব মিলিয়ে বাংলার নির্বাচনী লড়াই এখন কেবল ভোটবাক্সেই সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গিয়েছে খাদ্যাভ্যাস আর আঞ্চলিক পরিচয়ের লড়াইয়েও। অমিত শাহের ১৫ দিনের বঙ্গ সফর শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমীকরণে কী বদল আনে এবং তৃণমূলের এই আতিথেয়তার পালটা বিজেপি কী প্রতিক্রিয়া দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে ভোটের বাজারে তৃণমূলের এই মেনু কার্ড যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *