অশান্তির মঙ্গলকোটে সুর বদলেছে বামেদের, শান্তি ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে অনড় তৃণমূল

একদা বোমা ও গুলির লড়াইয়ের জন্য পরিচিত মঙ্গলকোট বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনীতির পটপরিবর্তন এখন স্পষ্ট। ২০০৯ সালের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পর যে এলাকা সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছিল, সেখানে এবার সৌজন্যের রাজনীতিতে জোর দিচ্ছে সিপিএম। বাম নেতারা এখন পেশিশক্তির বদলে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার কথা বলে মানুষের কাছে ভোট চাইছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও মানছেন যে, একসময়ের চরম বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনী ময়দানে ১০০ দিনের কাজের বঞ্চনা, বেকারত্ব এবং ফসলের নায্য দাম না পাওয়ার ইস্যুকে হাতিয়ার করেছেন বাম প্রার্থী মিরাজ আলম। অন্যদিকে, বিজেপিকে প্রচারের দৌড়ে বিশেষ দেখা না গেলেও তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব চৌধুরী এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। শাসক শিবিরের দাবি, বাম জামানার অত্যাচারী শাসন থেকে মানুষ মুক্তি পেয়েছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুফলই তাদের জয়ের প্রধান হাতিয়ার হবে।
অজয় নদ সংলগ্ন এই জনপদে বিজেপির প্রভাব গত বিধানসভা ভোটের তুলনায় কিছুটা ফিকে মনে হলেও কর্মসংস্থান নিয়ে সরব হয়েছেন গেরুয়া প্রার্থী শিশির ঘোষ। মঙ্গলকোট, কৈচর ও ক্ষীরগ্রামের সাধারণ ভোটারদের মতে, এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরানোই ছিল সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই নিরিখে শাসক দল নিজেদের পাল্লা ভারী রাখলেও সিপিএমের নতুন কৌশলী প্রচার লড়াইকে ত্রিমুখী করে তুলেছে, যা এবারের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।