অষ্টম পে কমিশনে লেভেল ১ বেতন হতে পারে ৫৪ হাজার টাকা, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের জাদুতে ব্যাপক বৃদ্ধির সম্ভাবনা

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এই কমিশন সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দিতে পারে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের বেতন বৃদ্ধির মূলে রয়েছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’, যা কর্মচারীদের মূল বেতন নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
সপ্তম বেতন কমিশনে পে ব্যান্ড ও গ্রেড পে ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে পে ম্যাট্রিক্স চালু করা হয়েছিল। তখন ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করায় সর্বনিম্ন বেতন ১৮,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,৫০,০০০ টাকা নির্ধারিত হয়। ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন সবার নজর অষ্টম কমিশনের দিকে।
কর্মচারী সংগঠনগুলো এবার ৩.০ থেকে ৩.২৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়েছে। যদি সরকার ৩.০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুমোদন করে, তবে লেভেল ১ কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে একলাফে ৫৪,০০০ টাকা হতে পারে। অর্থাৎ, বেতন বাড়বে ৩৬,০০০ টাকা। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ লেভেলের বেতন ২.৫০ লক্ষ থেকে বেড়ে ৭.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণে ডিএ (DA), বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং ফ্যামিলি ইউনিটের মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়। বর্তমানে ডিএ ৫৮ শতাংশের আশেপাশে থাকলেও বাস্তবায়নের সময় তা ৭০ শতাংশ ছুঁতে পারে। এছাড়া গতবার ফ্যামিলি ইউনিট ৩ ধরা হলেও এবার তা ৫ করার সুপারিশ করা হতে পারে, যা বেতন বৃদ্ধিতে অতিরিক্ত গতি আনবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রোথ ফ্যাক্টর ও বর্তমান মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে বেতন কাঠামোয় বড়সড় রদবদল আসতে চলেছে। অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে কয়েক লক্ষ কেন্দ্রীয় কর্মচারী ও পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সরকারের বিবেচনা ও কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনের ওপর।