অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট, বকেয়া বাবদ ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন সরকারি কর্মীরা

অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়া নিয়ে দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংশোধিত বেতন কাঠামো চালু হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের বর্ধিত অর্থ বা ‘এরিয়ার’ এককালীন কত পাওয়া যাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, বকেয়া বাবদ একজন কর্মী সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা ধার্য রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সংশোধিত বেতন নির্ধারণের সময় বর্তমান মূল বেতনের সঙ্গে নির্দিষ্ট ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ গুণ করা হয়। যদি অষ্টম বেতন কমিশন এই গুণক ২.০ স্থির করে, তবে ন্যূনতম বেতন বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬ হাজার টাকা। তবে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনগুলি নিম্ন পদের কর্মীদের স্বার্থে এই ফ্যাক্টর ৩.০ থেকে ৩.২৫ করার আবেদন জানিয়েছে। বেতন পরিকাঠামোর বিভিন্ন স্তর বা লেভেল অনুযায়ী এই হিসাব পরিবর্তিত হবে।
সূত্রের খবর, নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে বাস্তবে তা প্রয়োগ করতে আগামী বছর পর্যন্ত সময় লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যদি প্রায় ২০ মাস সময় লাগে, তবে সেই দীর্ঘ সময়ের বর্ধিত বকেয়া বেতন ‘এরিয়ার’ হিসেবে একবারে প্রদান করা হবে। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী, কর্মীর পদের স্তরভেদে এই বকেয়া অর্থের পরিমাণ ৩.৬ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে যে সমস্ত কর্মীর আয় মাসে ৫০ হাজার টাকার কম, তাঁদের মোট আটটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। লেভেল ১-এর কর্মীদের বর্তমান মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা হলেও অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশে তা ৩৬ হাজার থেকে ৪৬ হাজার ২৬০ টাকার মধ্যে পৌঁছাতে পারে। একইভাবে লেভেল ৮-এর কর্মীরাও তাঁদের বর্তমান মূল বেতনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি বেতন ও বকেয়া পাওয়ার দাবিদার হবেন। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বকেয়া অর্থের পরিমাণ স্বভাবতই অনেক বেশি হবে।
এই বিশাল অংকের বকেয়া টাকা কেন্দ্রীয় সরকার একবারে অথবা কিস্তিতে প্রদান করতে পারে। মূলত নিচুতলার কর্মীদের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে একাধিক প্রস্তাব জমা পড়েছে কমিশনের কাছে। যদিও সরকারিভাবে চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে পেনশনভোগী ও বর্তমান কর্মীরা এই আর্থিক সুবিধাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আশার আলো দেখছেন। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বেতন ও পেনশন উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের সংস্কারের অপেক্ষা করছে দেশ।