অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়তে পারে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে ৮ম বেতন কমিশন। সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ কাটিয়ে আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, সরকার ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে বড়সড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে, যার ফলে কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন বা বেসিক স্যালারিতে একলাফে বিশাল বৃদ্ধি ঘটতে পারে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে উপকৃত হবেন প্রায় ৪৮.৬২ লক্ষ কর্মরত কর্মী এবং ৬৭.৮৫ লক্ষ পেনশনভোগী।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হলো সেই গাণিতিক সূত্র যা পুরনো মূল বেতনকে নতুন বেতন কাঠামোয় রূপান্তরিত করে। বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে এই ফ্যাক্টরটি ২.৫৭ হারে রয়েছে। ৮ম বেতন কমিশনে এটি বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো জল্পনা চলছে। যদি এটি কার্যকর হয়, তবে সরকারি কর্মীদের মোট বেতনে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সরাসরি বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। এর ফলে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মীদের আর্থিক স্থিতি আরও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বেতন বৃদ্ধির অংকটি খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, বর্তমানে যাদের ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের পরিবর্তনের ফলে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। যদিও কর্মচারী ইউনিয়নগুলো ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৮৬ থেকে ৩.২৫ করার দাবি জানাচ্ছে, যা কার্যকর হলে ন্যূনতম বেতন ৫১,০০০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূল বেতন বাড়ার পাশাপাশি মহার্ঘ ভাতা (DA), বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং ভ্রমণ ভাতার (TA) মতো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাল্লা দিয়ে বাড়বে।
এই নতুন বেতন কাঠামোর সুফল শুধু কর্মরতরাই নন, সমানভাবে পাবেন পেনশনভোগীরাও। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য পেনশনে সংশোধনী আনতে একটি নতুন ফর্মুলা তৈরি করা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই বর্ধিত পেনশন প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করবে। কমিশনকে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করেই পেনশন ও বেতনের চূড়ান্ত হার নির্ধারিত হবে।
নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট আসতে জুন ২০২৭ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে আশার কথা হলো, এটি পূর্ববর্তী তারিখ থেকেই কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ, কার্যকর হওয়ার দিন থেকে গত হওয়া মাসগুলোর বকেয়া বা এরিয়ার (Arrears) হিসেবে এককালীন মোটা টাকা হাতে পাবেন কর্মীরা। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এই প্রস্তাবিত বেতন চার্ট।