অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বাড়ছে জল্পনা, জানুন বেতন কাঠামোর বিবর্তন

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা কার্যকর হওয়া নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সরকার এই কমিশনের ঘোষণা দিলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপারিশ জমা দিতে কমিশন আরও অতিরিক্ত সময় নিতে পারে। ফলে ২০২৭ সালের আগে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং এটি কার্যকর হতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। বর্তমানে ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনের মতো সংগঠনগুলো সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কমানোর দাবি জানাচ্ছে।
১৯৪৬ সালে প্রথম বেতন কমিশনের সময় সর্বনিম্ন বেতন ছিল মাত্র ৫৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা। সময়ের সাথে সাথে এই কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। চতুর্থ বেতন কমিশনে সর্বনিম্ন বেতন ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে পঞ্চম কমিশনে ২৫৫০ টাকা এবং ষষ্ঠ কমিশনে ৭০০০ টাকায় দাঁড়ায়। ২০১৬ সালে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হলে সর্বনিম্ন বেতন বেড়ে হয় ১৮,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারিত হয় ২,৫০,০০০ টাকা। প্রতিটি কমিশনের হাত ধরে সরকারি কর্মীদের জীবনযাত্রার মান ও বেতন ক্রমে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। তবে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনগুলো বেতন বৈষম্য দূর করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। ১৯৫৭ সালের দ্বিতীয় বেতন কমিশনের সময় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান ছিল, তা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এখন নতুন দাবিগুলো উত্থাপিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের নজর এখন কমিশনের সুপারিশ ও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।