অষ্টম বেতন কমিশন: ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও বেতন বৃদ্ধির সমীকরণ

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশনের রূপরেখা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’, যা বর্তমান মূল বেতনের সঙ্গে গুণ করে সংশোধিত বেতন নির্ধারণ করা হয়। সপ্তম বেতন কমিশনে এই গুণক ছিল ২.৫৭, যার ফলে ন্যূনতম বেতন ১৮,০০০ টাকায় পৌঁছেছিল। তবে এবারের মূল আলোচনার বিষয় হলো, নতুন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হবে এবং তা কি পূর্ববর্তী কমিশনের তুলনায় বেশি সুবিধা প্রদান করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেতন বৃদ্ধির হার অনেকাংশে নির্ভর করছে মহার্ঘ্য ভাতার (ডিএ) স্তরের ওপর। সপ্তম বেতন কমিশন চালুর সময় ডিএ ১২৫ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা বেতন কাঠামো পুনর্গঠনে সহায়ক হয়েছিল। বর্তমানে ডিএ-র স্তর তুলনামূলক কম হওয়ায় উচ্চতর ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণে কিছুটা সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। যদিও কর্মচারী ইউনিয়নগুলো ৩.০ থেকে ৩.২৫ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারি আর্থিক স্থিতি ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে।
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হতে সাধারণত ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগে। ২০২৫ সালের শুরুতে কমিশনের কাজ শুরু হলেও ২০২৬ সালের মধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউনিয়নগুলোর দাবি অনুযায়ী বহু-স্তরের ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর গৃহীত হলে জুনিয়র ও সিনিয়র উভয় স্তরেই অর্থবহ বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত হতে পারে। তবে ডিএ-র বর্তমান নিম্ন হার শেষ পর্যন্ত বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।