অষ্টম শ্রেণির বইয়ে বিচার বিভাগে দুর্নীতির পাঠ! নজিরবিহীন ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি

অষ্টম শ্রেণির বইয়ে বিচার বিভাগে দুর্নীতির পাঠ! নজিরবিহীন ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি

এনসিইআরটি (NCERT)-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইতে বিচার ব্যবস্থার ‘দুর্নীতি’ নিয়ে লেখা বিষয়বস্তু ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ের স্বতঃস্ফূর্ত সংজ্ঞান (Suo Motu) নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিচার বিভাগের মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

ঠিক কী ঘটেছে?

প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, অষ্টম শ্রেণির শিশুদের পাঠ্যবইতে বিচার বিভাগে দুর্নীতির কথা পড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেন, “আমি কাউকে এই প্রতিষ্ঠানকে বদনাম করার অনুমতি দেব না। আইন তার নিজের পথেই চলবে।” বিচারপতি বাগচীও এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, পাঠ্যবইয়ের এই অংশটি সংবিধানের মূল কাঠামোর পরিপন্থী বলে মনে হচ্ছে।

এনসিইআরটি-র নতুন বইতে কী আছে?

এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির নতুন সমাজবিজ্ঞান বইতে ‘বিচার বিভাগে দুর্নীতি’ নামে একটি আলাদা বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে:

  • বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে সাধারণ মানুষকে দুর্নীতির সম্মুখীন হতে হয়।
  • এটি বিশেষ করে গরিব ও বঞ্চিত মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বড় বাধা।
  • উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে পড়ে থাকা কয়েক কোটি মামলার স্তূপকে বিচার ব্যবস্থার অন্যতম ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
  • ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিচার বিভাগ সংক্রান্ত ১৬০০-র বেশি অভিযোগ জমা পড়ার তথ্যও দেওয়া হয়েছে বইটিতে।

ক্ষুব্ধ বিচারক মহল

প্রধান বিচারপতি জানান, এই পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে দেশের সমস্ত হাইকোর্টের বিচারকরা এবং আইনজীবীরা অত্যন্ত বিচলিত। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মনে হচ্ছে এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি পদক্ষেপ।”

উল্লেখ্য, পাঠ্যবইয়ের আগের সংস্করণগুলোতে মূলত আদালতের কাঠামো এবং ভূমিকা নিয়ে আলোচনা থাকত। কিন্তু সংশোধিত সংস্করণে যেভাবে দুর্নীতির বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। প্রধান বিচারপতি আশ্বস্ত করেছেন যে, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *