আসামে এনডিএ-র নিরঙ্কুশ জয়ের দাবি হিমন্ত বিশ্ব শর্মার

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আসামের রাজনীতি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন যে, রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করবে। ১২৬ আসন বিশিষ্ট আসাম বিধানসভায় ক্ষমতাসীন জোট ৯০ থেকে ১০০টি আসন দখল করবে বলে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। শর্মাজির এই ভবিষ্যৎবাণী রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, কারণ এর আগেও তাঁর একাধিক রাজনৈতিক অনুমান সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার হিসাব অনুযায়ী, বিরোধীদের অবস্থা এবার অত্যন্ত শোচনীয় হতে চলেছে। তাঁর মতে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সর্বোচ্চ ১৬ থেকে ১৭টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ৫-৬টি এবং রাইজোর দল মাত্র ১টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। আসাম জাতীয় পরিষদের ঝুলি শূন্য থাকবে বলেই মনে করছেন তিনি। অখিল গগৈ-এর দল বড়জোর একটি আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি এনডিএ-র বিশাল ব্যবধানে জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিহু ও নলবাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিজেপি এবং তার শরিকরা বড় ব্যবধানে জয়লাভ করবে। এমনকি ধুব্রি এবং গোলকগঞ্জের মতো এলাকাগুলোতেও এনডিএ প্রার্থীরা আধিপত্য বিস্তার করবেন বলে তাঁর দাবি। গুয়াহাটির আসনগুলোতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে না বলে মনে করেন তিনি। এছাড়াও ডিব্রুগড়, লখিমপুর এবং কাজিরাঙার মতো লোকসভা আসনগুলোতে পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিধানসভাতেও জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আপার আসাম বা উজানি আসামে কংগ্রেসের অবস্থান আগের চেয়ে দুর্বল হয়েছে। চা বাগান অধ্যুষিত এই অঞ্চলটি একসময় কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০১৬ সাল থেকে সেখানে বিজেপির প্রভাব বেড়েছে। মূলত চা জনগোষ্ঠীর বড় অংশ কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়ায় ওই অঞ্চলের ক্ষমতা এখন গেরুয়া শিবিরের হাতে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার আত্মবিশ্বাসের পেছনে এই ভোটব্যাংকের মেরুকরণ একটি বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবিকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে কটাক্ষ করেছে বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদের পাল্টা দাবি, আসামের সাধারণ মানুষ বর্তমান শাসনে অতিষ্ঠ এবং তাঁরা পরিবর্তন চাইছেন। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরেই বোঝা যাবে সাধারণ জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট কোন দিকে। আগামী ৯ এপ্রিল আসামে এক দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তার ফলাফলই নির্ধারণ করবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই তিন সংখ্যার ম্যাজিক ফিগারের দাবি কতটা বাস্তবসম্মত।